নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ২০ অক্টোবর ২০২১ঃ
আজ, লক্ষ্মী পুজোর দিনে গোটা জেলাজুড়ে “ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পুজোর” আয়োজন করল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন জেলার প্রতিটি “ঘরের লক্ষ্মীদের” সম্মান জানিয়েছে। এদিন রাজ্য সরকারের “লক্ষ্মীর ভান্ডার” প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত জেলার উপভোক্তা মহিলাদের হাতে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপহার তুলে দেওয়া হয়। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিক পল্লব পাল জানান, জেলার প্রতিটি ব্লকে এই অনুষ্ঠান হয়েছে আজ। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূল অনুষ্ঠানটি হয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ে। এদিন “লক্ষ্মীর ভান্ডার” প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত জেলার প্রতিটি ব্লকের উপভোক্তা মহিলাদের হাতে ফুলের স্তবক, “লক্ষ্মীর ঝাঁপি” সহ উপহার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। অযোধ্যা পাহাড়ে প্রশাসনের মূল অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ার জেলা শাসক রাহুল মজুমদার সহ এদিন উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সন্ধ্যারাণী টুডু, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত, জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথোরিয়া সহ আরো প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা শাসক রাহুল মজুমদার বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প রাজ্যের মায়েদের শক্তি বাড়ানোর জন্য সফল প্রয়াস। তিনি আরো বলেন, মায়েদের যেমন কোন জাতি-ধর্ম হয়না এবং মায়েরা যেমন সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে, তেমনি রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পেরও মূল উদ্দেশ্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে উঠে সকল মায়েদের শক্তি বাড়ানো। কেননা মায়ের শক্তি বাড়লেই পরিবারের শক্তি বাড়বে।
পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাতে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প থেকে মোট চার লক্ষ ৭৫ হাজার ৪০৮ জন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পটি রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ির লক্ষ্মীদের অ্যাকাউন্টে শুধু যে টাকাই পৌঁছবে, এমন নয়, মহিলাদের বিশেষত মায়েদের বিশেষ সম্মান জানানোর জন্যই এই উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। লক্ষ্মী পুজোর দিনে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরের লক্ষ্মীদের বিশেষভাবে সম্মান জানানোর এই উদ্যোগ যে জেলার সাধারণ মহিলাদের আরো বেশি করে আত্মনির্ভর হতে বিশেষ সাহায্য করবে, তেমনই মনে করেন অযোধ্যা পাহাড়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল জনপ্রতিনিধিরাও। এদিন জেলার প্রতিটি ব্লক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট ব্লকের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা মহিলাদের এই সম্মান জানানো হয়েছে। মানবাজার-১ ব্লক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক রাজীব মুর্মু, মানবাজার-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পুস্প দাস, সহকারী সভাপতি দিলীপ পাত্র সহ আরো বিশিষ্ট জনেরা। পুষ্প দাস এদিন জানান, ঘরে ঘরে লক্ষ্মীদের এই সম্মান দেওয়ায় মায়েদের আত্মনির্ভরতা আরো অনেক বেড়ে যাবে। এদিন মানবাজার-১ নং ব্লকের এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তথা মানপুর গ্রামের বাসিন্দা রীতা বাউরি বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়ে এমনিতেই খুব উপকৃত হয়েছি। একই সঙ্গে আজ অনুষ্ঠানে সম্নানিত হয়ে তিনি যে খুশিতে আপ্লুত, তেমনই জানিয়েছেন রীতা দেবী।







