ড: সুমন রায়, পুরুলিয়া, ২২ মার্চ ২০২২ঃ
একটি ছাগল যখন অন্যের ক্ষেতের ফসলে মুখ দেয়….!!
তাই নিয়ে আবার ঝগড়া?
এই-টা কি রাজনীতি-র বিষয় হতে পারে????
গ্রামের মানুষের এ-হেন রাজনৈতিক ইস্যু শুনে,
শহুরে লোকজন বেশ নাক সিঁটকিনি দিতে পারে….
আর গ্রাম-শহরের ৫০০ টাকার লক্ষীর ভাণ্ডার বা বেকার ভাতা? সেটাতে আবার আমাদের সকলের এলার্জি!
হ্যাঁ এইসব নিয়েই মানুষের জীবন আবর্তিত হয়… ওটাই ওদের রাজনৈতিক ইস্যু….
ছাগল-ধানক্ষেতের ইস্যু নিয়েই, শহুরে চাকচিক্যময়তা-র চেয়ে, গ্রামের মানুষ রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক বেশী সাবলীল….!
বা ৫০০ টাকার লক্ষীর ভাণ্ডারের সান্নিধ্য, ধনী-গরীবের বিবেচনার পার্থক্য লক্ষ-যোজন।
আপনি যদি DA বাড়ানোর দাবীতে মিছিল-অবরোধ করতে পারেন, পেট্রোলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষিপ্ত হতে পারেন,
তবে কা’র জমিতে, কা’র ছাগল ধান খেয়ে গেল, সেটা নিয়েও গ্রামীন রাজনীতির পথ মসৃণ-পিচ্ছিল হতেই পারে…! এবং সেটা শহুরেদের চেয়ে অনেক বেশী প্রাণবন্ত রাজনৈতিক সচেতনতা। গ্রামের মানুষের সম্পূর্ণ স্বত্ত্বা জুড়েই আছে ধানক্ষেত-পাটক্ষেত আর গবাদিপশু।
তাদের (গ্রাম অথবা গরীব) ধারণা-তে এটা আসেই না যে, ৫০ হাজার টাকা মাইনে পাওয়ার পরেও লোকে কেন মাইনে বৃদ্ধির আন্দোলন করতে যায়… কারণ তাদের কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার নিশ্চিত ইনকাম মানে বৃহঃস্পতি গ্রহ জয়ের স্বপ্ন….
যে মানুষ-টা কুকুর ভালোবাসে না,
সে যেমন বুঝতেই পারেনা, পথকুকুরের জন্যে মাংস-খেঁকো মানুষের এত আদর আসে কোথা থেকে! ঠিক সেরকম ভাবেই ৫০ হাজারি ইনকাম গ্রুপের মানুষ বোঝেই না,
লক্ষী ভাণ্ডারের ৫০০ টাকা সকলের কাছে ভিক্ষা-গ্রহণ নয় বরং মারাত্মক প্রয়োজন…..
যে মাতা, একসাথে চোখে কখনও দশ’খানা ১০০ টাকার নোট দেখেনি,
যে মাতা স্কুলে যাওয়ার আগে কোনদিন, মেয়ের হাতে ১০ টাকা টিফিন খরচা দিতে পারেনি,
যে বৃদ্ধার ছেলে কখনও মায়ের হাতে ১০০ টাকার প্রেশারের ওষুধ কিনে দেয় নি….
সেই বৃদ্ধা- সেই মাতা জানে, ৫০০ টাকা ভিক্ষা নয়, বরং বেঁচে থাকার রসদ…..
এখন ব্যপারটা হল গিয়ে,
ওরা কেন পাবে? আমরা কি পেলাম?
….. এই ভাবনা নিয়ে যদি বিচার করতে বসেন, তবে সেই বিচারক নিরপেক্ষ নন, বরং না-পাওয়ার বেদনায় বেদনার্ত।
গ্রামের লোকের ২ টাকা কেজি দরের চাল, হয়ত অনেকের দরকার নেই!
আবার দরকার যে নেই, বিশ্ব-মানচিত্রের ক্ষুধা সূচকের ভারতের অবস্থান কিন্তু সেকথা বলে না….
এখন দিনে দু’বেলা আপনার বাড়ীতে কাজের-মহিলা আসেন, এবং ৬০০-৮০০ টাকা দিয়ে সারা মাসের বাসন মাজিয়ে নিতে পারেন আপনি।
সেই মহিলা দিনে ২০-২৫ টাকা পায়। দু’বেলার জন্য। প্রত্যেক বেলার জন্য ১২ টাকা।
এই পরিমাণ টাকা, এমনিতেও ভিক্ষার চাইতে কম, যা আপনি তাকে মাইনে দেন।
হাতে ৫০০ টাকা পেলে, দু-টো ঘটনা ঘটতে পারে।
এক-নম্বর যেটা হতে পারে, সেই মহিলা এক-বাড়ী কম কাজ করবে এবং সেই সময়টা সে নিজের সংসারে দিতে পারে, বা নিজের ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য দিতে পারে…
অথবা দু-নম্বরে, সে সটান বলে দিতে পারে ৬০০ টাকায় আপনার বাড়ীতে সে আর কাজ করবে না, মাইনে বাড়াতে হবে….
এই দু-টোতেই আমাদের সমস্যা….
৫০০ টাকা সে ভিক্ষাবেশে নেয় না,
এই না-পাওয়ার দেশে সরকারি তহবিল থেকে পায়,
যে সরকার তারা গঠন করে….!
এই টাকা কোন টেবিলের-তলা দিয়ে পাওয়া ঘুষের টাকা নয়, যা অফিসের টেবিলে বসে বা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে চাকরি বাবু-রা ইনকাম করতে পারে….
বরং এই অর্থ-প্রাপ্তি ওসবের চেয়ে কম অসম্মানের….
বা পুরোপুরি সম্মানের।
কি ভাবছেন? আপনার ট্যাক্সের টাকা? ট্যাক্স-ফাঁকি দিয়ে ট্যাক্স-জমাদার আমরা বড্ড সাধু!!!?
চাকরি যদি আপনার জীবিকা-শক্তি হয়, তাহলে ছাগল-ধানক্ষেত-লক্ষীভাণ্ডার তাদের জীবনি-শক্তি!!!
কেউ কেউ আছেই, ও-টাকার দরকার নেই, তারা গ্রামের বড়লোক, তারা তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু প্রাপ্তির আশায়….. যেমন অফিসে দু-চার জন থাকে ঘুষ খায় না….
এমন নয় যে, তারা লক্ষী ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে নিশ্চিন্ত জীবন কাটায়, বরং এই টাকা-টা জীবনের ইঞ্জিনে একটু বাড়তি ডিজেল ভরে দেয়…
—- স্কুলে যাওয়ার আগে ছেলের হাতে ১০ টাকা দিয়ে, মাতা বলতে পারে টিফিনে ১ টা বাপুজী কেক কিনে খাস্ বাবা,
—- মেয়েকে মাসে ১ প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে দিতে পারে….
নীলরঙা সাইকেল চড়ে অনেকেই পারে, পাশের বিল-মাঠ থেকে মাছ ধরে, দূরের হাটে বিক্রি করে সে পয়সায় এক বস্তা রাসায়নিক-সার কিনে বাড়ী ফিরতে…. সবুজ ফসলী জমি-টাকে আরও একটু উর্বর করতে…. এ-কাজে নীল সাইকেলের বিকল্প, আর কিছুই হতে পারে না!
পাবলিকের মনন না বুঝে…..
উপহাসের বদলে স্নেহ-সঞ্চার করতে না পেরে… আপনারা যদি শুধু কাগজে-কলমেই
উন্নত স্বপ্ন-দেখার বদ-অভ্যাস তৈরী করতেই থাকেন, এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে
সেই আচ্ছে-দিন পরিপাকের গন্ধটুকুও না ছড়াতে পারেন,
তবে মানুষ সাইকেল,লক্ষীভাণ্ডার, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী পেয়েই আপাতত মোক্ষ-লাভের প্রচেষ্টা চালাবে,
এবং তাতে পরিবার গুলো, জল-মাটি পেয়ে আশায় আশায় বেঁচে-বর্তে রইবে,
যতদিন না তারা আচ্ছে-দিন আসার চাকার ধ্বনি শুনতে পান
এবং
ততদিন এবং ততদিন সবুজ বিপ্লব চলতেই থাকবে…..!!!
#একটি_ছাগল_যখন অন্যের ক্ষেতের ফসলে মুখ দেয়….!!
তাই নিয়ে আবার ঝগড়া?
এই-টা কি রাজনীতি-র বিষয় হতে পারে????
গ্রামের মানুষের এ-হেন রাজনৈতিক ইস্যু শুনে,
শহুরে লোকজন বেশ নাক সিঁটকিনি দিতে পারে….
আর গ্রাম-শহরের ৫০০ টাকার লক্ষীর ভাণ্ডার বা বেকার ভাতা? সেটাতে আবার আমাদের সকলের এলার্জি!
হ্যাঁ এইসব নিয়েই মানুষের জীবন আবর্তিত হয়… ওটাই ওদের রাজনৈতিক ইস্যু….
ছাগল-ধানক্ষেতের ইস্যু নিয়েই, শহুরে চাকচিক্যময়তা-র চেয়ে, গ্রামের মানুষ রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক বেশী সাবলীল….!
বা ৫০০ টাকার লক্ষীর ভাণ্ডারের সান্নিধ্য, ধনী-গরীবের বিবেচনার পার্থক্য লক্ষ-যোজন।
আপনি যদি DA বাড়ানোর দাবীতে মিছিল-অবরোধ করতে পারেন, পেট্রোলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষিপ্ত হতে পারেন,
তবে কা’র জমিতে, কা’র ছাগল ধান খেয়ে গেল, সেটা নিয়েও গ্রামীন রাজনীতির পথ মসৃণ-পিচ্ছিল হতেই পারে…! এবং সেটা শহুরেদের চেয়ে অনেক বেশী প্রাণবন্ত রাজনৈতিক সচেতনতা। গ্রামের মানুষের সম্পূর্ণ স্বত্ত্বা জুড়েই আছে ধানক্ষেত-পাটক্ষেত আর গবাদিপশু।
তাদের (গ্রাম অথবা গরীব) ধারণা-তে এটা আসেই না যে, ৫০ হাজার টাকা মাইনে পাওয়ার পরেও লোকে কেন মাইনে বৃদ্ধির আন্দোলন করতে যায়… কারণ তাদের কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার নিশ্চিত ইনকাম মানে বৃহঃস্পতি গ্রহ জয়ের স্বপ্ন….
যে মানুষ-টা কুকুর ভালোবাসে না,
সে যেমন বুঝতেই পারেনা, পথকুকুরের জন্যে মাংস-খেঁকো মানুষের এত আদর আসে কোথা থেকে! ঠিক সেরকম ভাবেই ৫০ হাজারি ইনকাম গ্রুপের মানুষ বোঝেই না,
লক্ষী ভাণ্ডারের ৫০০ টাকা সকলের কাছে ভিক্ষা-গ্রহণ নয় বরং মারাত্মক প্রয়োজন…..
যে মাতা, একসাথে চোখে কখনও দশ’খানা ১০০ টাকার নোট দেখেনি,
যে মাতা স্কুলে যাওয়ার আগে কোনদিন, মেয়ের হাতে ১০ টাকা টিফিন খরচা দিতে পারেনি,
যে বৃদ্ধার ছেলে কখনও মায়ের হাতে ১০০ টাকার প্রেশারের ওষুধ কিনে দেয় নি….
সেই বৃদ্ধা- সেই মাতা জানে, ৫০০ টাকা ভিক্ষা নয়, বরং বেঁচে থাকার রসদ…..
এখন ব্যপারটা হল গিয়ে,
ওরা কেন পাবে? আমরা কি পেলাম?
….. এই ভাবনা নিয়ে যদি বিচার করতে বসেন, তবে সেই বিচারক নিরপেক্ষ নন, বরং না-পাওয়ার বেদনায় বেদনার্ত।
গ্রামের লোকের ২ টাকা কেজি দরের চাল, হয়ত অনেকের দরকার নেই!
আবার দরকার যে নেই, বিশ্ব-মানচিত্রের ক্ষুধা সূচকের ভারতের অবস্থান কিন্তু সেকথা বলে না….
এখন দিনে দু’বেলা আপনার বাড়ীতে কাজের-মহিলা আসেন, এবং ৬০০-৮০০ টাকা দিয়ে সারা মাসের বাসন মাজিয়ে নিতে পারেন আপনি।
সেই মহিলা দিনে ২০-২৫ টাকা পায়। দু’বেলার জন্য। প্রত্যেক বেলার জন্য ১২ টাকা।
এই পরিমাণ টাকা, এমনিতেও ভিক্ষার চাইতে কম, যা আপনি তাকে মাইনে দেন।
হাতে ৫০০ টাকা পেলে, দু-টো ঘটনা ঘটতে পারে।
এক-নম্বর যেটা হতে পারে, সেই মহিলা এক-বাড়ী কম কাজ করবে এবং সেই সময়টা সে নিজের সংসারে দিতে পারে, বা নিজের ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য দিতে পারে…
অথবা দু-নম্বরে, সে সটান বলে দিতে পারে ৬০০ টাকায় আপনার বাড়ীতে সে আর কাজ করবে না, মাইনে বাড়াতে হবে….
এই দু-টোতেই আমাদের সমস্যা….
৫০০ টাকা সে ভিক্ষাবেশে নেয় না,
এই না-পাওয়ার দেশে সরকারি তহবিল থেকে পায়,
যে সরকার তারা গঠন করে….!
এই টাকা কোন টেবিলের-তলা দিয়ে পাওয়া ঘুষের টাকা নয়, যা অফিসের টেবিলে বসে বা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে চাকরি বাবু-রা ইনকাম করতে পারে….
বরং এই অর্থ-প্রাপ্তি ওসবের চেয়ে কম অসম্মানের….
বা পুরোপুরি সম্মানের।
কি ভাবছেন? আপনার ট্যাক্সের টাকা? ট্যাক্স-ফাঁকি দিয়ে ট্যাক্স-জমাদার আমরা বড্ড সাধু!!!?
চাকরি যদি আপনার জীবিকা-শক্তি হয়, তাহলে ছাগল-ধানক্ষেত-লক্ষীভাণ্ডার তাদের জীবনি-শক্তি!!!
কেউ কেউ আছেই, ও-টাকার দরকার নেই, তারা গ্রামের বড়লোক, তারা তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু প্রাপ্তির আশায়….. যেমন অফিসে দু-চার জন থাকে ঘুষ খায় না….
এমন নয় যে, তারা লক্ষী ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে নিশ্চিন্ত জীবন কাটায়, বরং এই টাকা-টা জীবনের ইঞ্জিনে একটু বাড়তি ডিজেল ভরে দেয়…
—- স্কুলে যাওয়ার আগে ছেলের হাতে ১০ টাকা দিয়ে, মাতা বলতে পারে টিফিনে ১ টা বাপুজী কেক কিনে খাস্ বাবা,
—- মেয়েকে মাসে ১ প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে দিতে পারে….
নীলরঙা সাইকেল চড়ে অনেকেই পারে, পাশের বিল-মাঠ থেকে মাছ ধরে, দূরের হাটে বিক্রি করে সে পয়সায় এক বস্তা রাসায়নিক-সার কিনে বাড়ী ফিরতে…. সবুজ ফসলী জমি-টাকে আরও একটু উর্বর করতে…. এ-কাজে নীল সাইকেলের বিকল্প, আর কিছুই হতে পারে না!
পাবলিকের মনন না বুঝে…..
উপহাসের বদলে স্নেহ-সঞ্চার করতে না পেরে… আপনারা যদি শুধু কাগজে-কলমেই
উন্নত স্বপ্ন-দেখার বদ-অভ্যাস তৈরী করতেই থাকেন, এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে
সেই আচ্ছে-দিন পরিপাকের গন্ধটুকুও না ছড়াতে পারেন,
তবে মানুষ সাইকেল,লক্ষীভাণ্ডার, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী পেয়েই আপাতত মোক্ষ-লাভের প্রচেষ্টা চালাবে,
এবং তাতে পরিবার গুলো, জল-মাটি পেয়ে আশায় আশায় বেঁচে-বর্তে রইবে,
যতদিন না তারা আচ্ছে-দিন আসার চাকার ধ্বনি শুনতে পান
এবং
ততদিন এবং ততদিন সবুজ বিপ্লব চলতেই থাকবে…..!!!
সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্য-রক্ষার পাশাপাশি এখনকার ব্যথার মলমটাও বড্ড জরুরী। লাল সেলাম কর্তা!!!!
….. Dr Suman Roy
