নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১৮ আগস্ট , ২০২০
একসময় যার দাপটে তটস্থ থাকত গোটা এলাকা।কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ এমনকি থানার বড়বাবু পর্যন্ত তাঁর এক হুঙ্কারে সিঁটিয়ে যেত।পাড়া থানা এলাকার সেই দাপুটে সিপিএম নেতা এখন পার্টি অফিসে চা তৈরিতে মন দিয়েছেন।কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পার্টি অফিসে এলেই যত্ন করে চা করে খাওয়াচ্ছেন।তাও আবার “লাল চা” ছেড়ে “দুধ চা”।
দীননাথ লোধা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য।ডিওয়াইএফআই এর জেলার দায়িত্ব থেকে শুরু করে দলের একাধিক গুরুত্ব পূর্ণ পদ সামলেছেন।পাড়া-দুবড়া এলাকার কার্যত দিনু লোধার কথায় শেষ কথা ছিল দীর্ঘসময়। এলাকায় কান পাতলেই এখনও শোনা যায়,পুলিস থেকে এলাকার ”দাদা”রাও তার ইশারাতেই চলত।সময় বদলেছে। পার্টি অফিস ভাঙচুরের মত ঘটনাও দেখতে হয়েছে।এলাকার ক্ষমতার দখল নিয়েছে ঘাসফুল ও গেরুয়া শিবির।
লালপার্টির কঠিন সময় বলে মানছেন নেতারাও। এলাকায় এলাকায় শুধু বিপ্লবের কথা বলে যে ভিড় জমছে না তা বুঝেছেন নেতারাও।নেতারা নিজেদের অহংকার ঝেড়ে ফেলে সাধারণ মানুষের বিপদে আপদে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করেছেন।সেই সঙ্গে সাদা চুলের নেতাদেরও সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় হওয়ার কাজ চলছে।জেলা সিপিএমের তাবড় নেতাদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয়তার নিরিখে দীননাথ লোধা অনেকেই পিছনে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে কর্মীদের মন পেতেও মরিয়া তিনি।
দলীয় সূত্রে জানাগিয়েছে,পাড়ার সিপিএমের দোতলা কার্যালয়ে নীচের তলাতেই সাধারণত বসেন দীনু লোধা। তাঁর বসার জায়গার পাশেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি।ওই সিঁড়ির তলাতেই রয়েছে চা তৈরির যাবতীয় আয়োজন।পার্টি অফিসের সর্বক্ষণের কর্মী ধনঞ্জয় পান্ডে না থাকলে পার্টি অফিসে আসা কর্মীদের নিজের হাতেই চা করে খাওয়ান দীনুবাবু। শুধু চা করায় নয়, তা পরিবেশনও করেন। তাঁর মতো দাপুটে নেতাকে কর্মীদের জন্য চা করতে দেখে হতবাক হন অনেকেই।
কর্মীদের মন জয়ের জন্য বা আগের মত দাপট না থাকাতেই চা তৈরিতে মন দিয়েছেন বলে মানতে নারাজ দীনুবাবু। তিনি বলেন,দাপট কমেছে কে বলল? ভোটে না জিতলেও এলাকাতে এখনও সিপিএমের দাপট রয়েছে। আর ফাঁকা অঢেল সময় বলে চা বানাচ্ছি এমন নয়।এখন তো সময় কম।এখন তো বেশি মানুষের কাছে যেতো হচ্ছে।তবে কেউ না থাকলে আমি নিজেই চা বানিয়ে দিয়েছি কতবার।আর চা করাটা আমার নতুন নয়।সত্তরের দশক থেকেই বানাচ্ছি। সেসময় আপনাদের তা চোখে পড়েনি হয়তো।তখন সময় আরও কম পেয়েছি।তিনি আরও বলেন,রাজ্যের বহু নেতা আমার হাতের চা এর প্রশংসা করে গিয়েছেন। একসঙ্গে ৪০ জনেরও বানিয়েছি। লাল চা ও দুধ চা দুরকমই বানানো হয়।আর শুধু কি চা করা!এতবড় পার্টি অফিসে সব ঘর পরিষ্কার রাখা ও দরকার হলে ঝাঁটা দেওয়ার কাজও করতে হয়। কোনও কাজ তো ছোটো নয়।
শেয়ার করুন