নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২৯ সেপ্টেম্বর , ২০২০
পুরুলিয়ার কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে আসন সংখ্যা সীমিত। আর তাই কলেজে ভর্তি হতে না পেরে উচ্চ শিক্ষায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন পড়ুয়ারা বলে দাবি। প্রসঙ্গত বর্তমানে জেলার কলেজগুলিতে অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। ভর্তির ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পর ওয়েটিং লিস্ট সহ বেশ কয়েক ধাপে তালিকা প্রকাশও করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষগুলি। কিন্তু তাতেও তাঁদের নাম দেখে অথৈ জলে পড়েছেন বেশ কয়েকটি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রফেসর্স টিচার্স অ্যাসােসিয়েশনের পুরুলিয়া জেলা শাখার সভাপতি তথা অধ্যাপিকা অর্ণবী সেন এবং সংগঠনের সম্পাদক তথা শিক্ষক সহিদ আনসারীর দাবি ‘জেলার কলেজগুলিতেস্নাতক স্তরে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বিশেষত ৪৫ থেকে ৫৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ মধ্যম বর্গের ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারছেন না।
পুরুলিয়ার রাজবস্তির বাসিন্দা মহম্মদ আসিফ এ বছর নেতাজী বিদ্যাপীঠ থেকে ৫৬.২ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। জে.কে. কলেজে বি.এ প্রােগ্রাম কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন জমা করেন। মহম্মদ আসিফের দাবি, ওয়েটিং লিস্টে ৩০-এ নাম থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রকাশিত সপ্তম মেরিট তালিকাতেও তাঁর নাম ওঠেনি। এরপর আর কি কোন মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হবে ? আসিফের বক্তব্য, “আপাতত সিট নেই বলে জেনেছেন তিনি। পরে কেউ কেউ ভর্তি না হলে এবং সিট খালি হলে সুযােগ আসতে পারে। ফলে স্নাতক স্তরে পড়াশুনাের ক্ষেত্রে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মনে, এ রকম দাবি মহম্মদ আসিফের।
একই অবস্থা ওই এলাকারই সামিমা খাতুনের। এ বছর সামিমা আয়েশা কাচ্চি উর্দু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ৫২.৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ। কিন্তু বর্তমানে মেরিট লিস্টে নাম না ওঠায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কলা বিভাগে পাসকোর্সে ভর্তির আবেদন করেছিলেন। গুর্খা গ্রাউন্ড সংলগ্ন আঁজির বস্তির বাসিন্দা পূজা ভার্মা এবং নয়া বস্তির বাসিন্দা সাহিন পারভিনের অভিজ্ঞতাও একই। দুজনেই এ বছর রামকৃষ্ণ তারক মঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণা। জে.কে. কলেজ এবং নিস্তারিণী কলেজ দুটো কলেজেই আবেদন করেছিলেন বি.এ. স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য।নাম না ওঠায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দুজনেই। দুজনেই ৪৪ শতাংশের মতাে নম্বর পেয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিকে।
অর্ণবী সেন ও সহিদ আনসারী বলেন, গত ২২ তারিখ এই সমস্যার কথা উল্লেখ করে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরুলিয়ার জেলাশাসককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বড় অংশের জেলার পড়ুয়ারা যাতে স্নাতক স্তরে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য কলেজগুলিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে বা শিফট ভিত্তিতে পড়ার ব্যবস্থা করার দাবিও তাঁরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে বলেন সহিদ আনসারী।
শেয়ার করুন