নিজস্ব সংবাদদাতা , মানবাজার-১
১৫ সেপ্টেম্বর , ২০২০
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা দলীয় কার্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে। মানবাজার-১ ব্লকের সভাপতি করা হয়েছে দেবেন মাহাতকে। আর এ নিয়েই শোরগোল উঠেছে ব্লকের দলীয় পরিসরেই, “বিগত ২০১৮ র পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যিনি ভোটে লড়েছিলেন, তাঁকেই কেন ব্লকে দলের শীর্ষে বসানো হলো? তাও আবার জেলা সভাপতির খাস তালুকে!”
প্রসঙ্গত একদা মানবাজারে সন্ধ্যারাণী টুডু এবং গুরুপদ টুডুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দেবন মাহাত ২০১৮ র পঞ্চায়েত নির্বাচনে সমিতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেন । আবার ভালুবাসা গ্রাম পঞ্চায়েতে দেবেন বাবুর অনুগামী বলে পরিচিতরা তৃণমূলের বিপক্ষে সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন ।
তারপরও ব্লকের দলীয় শীর্ষ পদে বহাল হয়েছেন তিনি। মেনে নিতে পারছেন না এলাকার পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরের অনেক নেতা-কর্মীরা। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে মানবাজারে তৃণমূলের রাজনৈতিক জমি তৈরীতে একসময় প্রশসংশনীয় ভূমিকা পালন করেছেন দেবেন মাহাত। পরে দল ভালুবাসা অঞ্চলের সভাপতি করে সুভাষ মাহাতকে। এরপরই দেবেন মাহাতর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়।
২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্লকের ভালুবাসা অঞ্চলে বাম জোটে তৃণমূলকে হারিয়ে বোর্ড করেন তিনি। মানবাজার-১ ব্লকে পঞ্চায়েত সমিতিতে সেবার মোট ২৬টি আসনের মধ্যে ২৩ টি পায় তৃণমূল, ২টি সিপিআইএম, অন্যটি নির্দল। পরে আবার শহরের রবীন্দ্রভবনে তিনি তৃণমূলের পতাকাও তুলে নেন। দলের একাংশের দাবি, ব্লকের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা এক সময় দেবেন মাহাতকে দলে ফিরিয়ে নিয়ে আসার আবেদন করলে সেবার বিরোধিতা করেছিলেন স্বয়ং গুরুপদ টুডুই। “তাহলে এখন নিজেই যখন দলের জেলা সভাপতি তখন কেন তৃণমূল বিরোধীকে ব্লকের শীর্ষে বসলেন?” এই প্রশ্ন উঠেছে দলেরই অন্দরে।অতীতের এই ঘটনাগুলি একপ্রকার স্বীকার করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি বলেন, “সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে এলাকার নীচুতলার কর্মী ও নেতারা দেবেন মাহাতকে চাইছেন। তাঁদের কথার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে”।
শেয়ার করুন