নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১৩ অক্টোবর , ২০২০
রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নির্দেশে পুরুলিয়ায় কর্মরত মোট ৩১৪ জন শিক্ষককে তাঁদের নিজেদের জেলায় বদলি করে দেওয়া হল। পরিবর্তে পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে বদলি করে নিয়ে আসা হয়েছে মাত্র ৩৮ জন প্রাথমিক শিক্ষককে। গত ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দু-দফার দুটি নির্দেশিকায় গত শুক্রবার থেকেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়েও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দফতরের এক সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলার শিক্ষক মহলে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির পক্ষেও দাবি করা হয়েছে, ‘এতে পুরুলিয়া জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ল’।
প্রসঙ্গত গত ৬ ও ৮ অক্টোবরের দুটি নির্দেশিকায় রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ পুরুলিয়ার বিভিন্ন স্কুলে (২০১৭ সালের নিয়োগ অনুযায়ী) কর্মরত মোট ৩১৪ জন প্রাথমিক শিক্ষককে তাঁদের নিজেদের জেলায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বদলি প্রক্রিয়া যে শুক্রবার থেকে জেলাতে শুরুও হয়ে গেছে, তেমনই জানা গিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতর সূত্রে। উল্টোদিকে রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের ৬ তারিখের নির্দেশিকার অনুচ্ছেদ-২ অনুযায়ী পুরুলিয়া জেলার স্কুলগুলিতে ৩৮ জন প্রাথমিক শিক্ষককে বদলি করে নিয়ে আসা হয়। আর এতেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে জেলার শিক্ষক মহলে। এবিপিটিএ জেলা সম্পাদক নিলয় মুখার্জি গোটা বিষয়টিতে ‘জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ল’, একথা বলে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি খুব শীঘ্রই আরো বহু প্রাথমিক শিক্ষক দফায় দফায় পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে যাবেন’। তিনি আরো বলেন, এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলি বন্ধ রয়েছে। কিন্ত এবার যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, তাতে অদূর ভবিষ্যতে স্কুল খুললেও কেবলমাত্র শিক্ষকের অভাবে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পঠন পাঠন বন্ধ হয়ে যাবে।
আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতর দাবি, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতার প্রসঙ্গ তুলে আমরা যখন জেলাজুড়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম, এই আশঙ্কার কথাও আমরা তখনই উল্লেখ করেছিলাম। তিনি বলেন, সেসময়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতার বিষয়ের পাশাপাশি আমাদের এমনও দাবি ছিল যে স্থানীয় যোগ্য পদপ্রার্থীদের জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক পদে বহাল করতে অধিকতর অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। কিন্ত সরকার তথা তৎকালীন প্রশাসন তখন তা মানেন নি। অজিতবাবু বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সংগঠনের পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল অতি সত্ত্বর জেলা শাসকের কাছে পাঠাচ্ছি আমরা। আমাদের দাবি থাকবে, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসন যেন দ্রুত সদর্থক পদক্ষেপ নেয়। তা না হলে আমরা আবার বৃহত্তর আন্দোলনে যাব বলে জানিয়েছেন অজিত মাহাত।
শেয়ার করুন