নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ২ জুন, ২০২১
খুনের বদলা খুন ? বদলা নিতে খুড়তুতো ভাইয়ের বাড়ি গিয়ে তাঁকে খুনের অভিযোগ উঠল দাদাদের বিরুদ্ধে। এক ভাইকে কুপিয়ে খুনের পাশাপাশি অপর ভাইয়ের শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে তাঁর শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। উঠোনে গড়াগড়ি দিয়ে কোনওক্রমে জামাকাপড়ে লেগে থাকা আগুন খানিকটা নেভাতে সক্ষম হন মৃতের ভাই। অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর জখম অবস্থাতেই সাইকেল চালিয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে থানাতে গিয়ে গোটা ঘটনাটি জানান মৃতের ভাই। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুরুলিয়ার টামনা থানার রামপুর গ্রামের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্তরা এখনও পলাতক।
পুরুলিয়ার পুলিস সুপার এস সেলভা মুরগান বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিহিংসাতেই এই খুন বলে মনে হচ্ছে, তবে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানাগিয়েছে, মৃত যুবকের নাম শান্তিরাম গড়াই(২৪), রামপুর গ্রামেই তাঁর বাড়ি।
প্রসঙ্গত, রামপুর গ্রামেরই বাসিন্দা রথু গড়াই এবং দীপক গড়াই দুই ভাই ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে রথুবাবু খুন হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর তিন ছেলের মধ্যে দুজন জখম হন। তাঁরা দীর্ঘদিন ঝাড়খন্ডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও ছিলেন। অন্যদিকে সেসময় জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদের জেরেই রথু ওরফে রথীন্দ্রনাথবাবুকে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর নিজের ভাই দীপক গড়াই এবং তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত ছিলেন। দুই পরিবারের পারিবারিক বিবাদের বিষয়ে স্থানীয়রা প্রায় সকলেই অবগত।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, বেশকিছু দিন দুই পরিবারের তেমন কোনও বিবাদ প্রকাশ্যে নজরে আসেনি। মঙ্গলবার রাতে শান্তিরাম গড়াইয়ের বাড়িতে গিয়ে আচমকা তাঁর ওপর জেঠতুতো দাদারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। রাত দেড়টা নাগাদ ঘরের ভেতরে ঢুকে ধারালো কিছু দিয়ে শান্তিরামের ঘাড়ে কোপ মারে আমার ভাসুরের ছেলেরা। রক্তাত্ব অবস্থায় সেখানেই লুটিয়ে পড়ে শান্তিরাম। দাদার আর্তনাদ শুনে ঘনেশ্যামও সেখানে ছুটে আসে। তাঁর মুখে চোখে থেকে শুরু করে সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ওরা। ছেলেটা চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এসে উঠোনে গড়াগড়ি দিতে শুরু করে। সারা শরীর ঝলসে যায় তাঁর। সেই অবস্থাতেই সেখান থেকেই সাইকেল নিয়ে সোজা থানা চলে যায় ছোট ছেলেটা। তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে ঝগড়া ছিল সত্যি। কিন্তু সেতো অনেকদিন আগের। তারপর তো কতকিছু হয়েছে। আদালতে তো মামলা চলছিল। তাতে দোষীদের সারাজীবন জেল বা ফাঁসি যা হতো মেনে নিতাম। কিন্তু বাড়িতে এভাবে কুপিয়ে মেরে ফেললো ওরা।
