নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১ সেপ্টেম্বর , ২০২০

জেলাতে ব্লক সভাপতিদের নাম ঘোষনার আগেই সম্ভাব্যদের নাম নিয়েই তৃণমূলের অন্দরে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে বিভিন্ন ব্লকে। ইতিমধ্যে ৫ টিরও বেশি ব্লকের নেতারা জেলা সভাপতি এবং কো-অর্ডিনেটরদের কাছে এসে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে কার্যত বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। কেউ সোশ্যাল মিডিয়াতে সরব হয়েছেন, তো কেউ আবার বিক্ষোভের জন্য নিজেদের ‘ঘুঁটি’ সাজাচ্ছেন বলে দলের অন্দরেই খবর। তালিকা প্রকাশের আগেই ঘাসফুল শিবিরে এই বিক্ষোভ সভাপতিদের নাম ঘোষনার পর আরও জোরালো আকার ধারণ করবে না তো, আশঙ্কা অনেকেরই।

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক সভাপতিদের নাম ঠিক করতে ইতিমধ্যে রাজ্য নেতৃত্ব এবং টিম পিকের সঙ্গে জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কলকাতাতে দুদফায় বৈঠক হয়েছে। জেলাতেও একাধিকবার কো-অর্ডিনেটর ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছেন জেলা সভাপতি। তারপরেও ব্লকগুলিতে সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে জেলা নেতারা একমত হতে পারেননি বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর। তবে শনিবার কলকাতাতে শেষ বৈঠকে ব্লক সভাপতি নাম নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর তা তৃণমূল সুপ্রিমোর চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ব্লক নেতাদের ‘জেলা কমিটিতে পূর্নবাসন’-এর বিষয়টিও রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করে দিয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। এতে দলের অন্দরের অসন্তোষ সামলানো যে সহজ হয়ে যাবে এমই মনে করছেন অনেকেই।

তবে ওই বৈঠকে আলোচিত ব্লক সভাপতিদের নামের তালিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে দলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে। রবিবার রঘুনাথপুর-২, ঝালদা-২, বরাবাজার সহ বিভিন্ন ব্লকের নেতা-কর্মীদের একাংশ দলীয় কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি বিক্ষোভও দেখান। যদিও সবপক্ষের বক্তব্যই জেলানেতারা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার বার্তাও দেওয়া হয়।

তৃণমূলের এক জেলা নেতা জানান, ব্লক সভাপতি নামের তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগেই পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকে যেভাবে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে তা পরে আরও বাড়াতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, সাম্প্রতিককালে জেলা বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা দুই হেভিওয়েট নেতাকে দুটি ব্লকের দায়িত্ব দিতে পারে দল। অন্য দল থেকে আসাদের এভাবে দলের মাথায় বসালে যে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব বা জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। তবে এসব কিছুকে গুরুত্ব দিতে চান না জেলা তৃণমূলের একটা বজ় অংশ। তাঁদের যুক্তি, “দীর্ঘদিনের জেলা সভাপতি এবং মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতকে পদ থেকে সরানোর পরও জেলার কোনও প্রান্তেই সামান্যতম বিক্ষোভ না হওয়ার বিষয়টি ভরসা যুগিয়েছে জেলা সভাপতি সহ জেলার কো-অর্ডিনেটরদের।”

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page