নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
জেলার ৯ টি বিধানসভার অধিকাংশ আসনেই নির্বাচনে এবার নতুন মুখের দিকে ঝুঁকতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্ততঃ জেলা তৃণমূলের অন্দরে এরকমই জল্পনা। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে টিম পি কে-র পরামর্শ থাকবে তেমনই দাবি জেলা তৃণমূলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের। এমনকি রীতিমত এলাকার মানুষের অভিমতের সাপেক্ষেই যে পি কে-র টিম সদস্যদের এই পরামর্শ দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে উঠে আসতে চলেছে তেমনই জানা গিয়েছে দলের ওই সূত্রে।
জানা গিয়েছে কোথাও বর্তমান বিধায়কের বয়স জনিত অক্ষমতা, কোথাও বিধায়কদের বিরুদ্ধে জনমানসে ক্ষোভ, আবার কোথাও বিজেপির উত্থান সহ বিরোধিদের ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের তরতাজা যুব দলের প্রতিনিধিকে কাজের লোক হিসেবে তুলে ধরার ছক, এই সমস্ত কিছু বিশ্লেষণ করে প্রার্থী বাছাইয়ের একটা চূড়ান্ত সংমিশ্রণ প্রক্রিয়া জেলাতে অবলম্বন করতে চলেছে শাসক দল। দলীয় এক সূত্রে জানা গিয়েছে রঘুনাথপুর, পাড়া, বাঘমুন্ডি, বান্দোয়ান, কাশীপুর ও জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে।
সূত্রের দাবি, জয়পুর বিধানসভার বর্তমান বিধায়কের বয়স জনিত কারনে নতুন মুখ আসতে পারে। আবার রঘুনাথপুর, পাড়া, বান্দোয়ানে বর্তমান বিধায়কদের থেকে ভোটারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা বিধায়কদের জনপ্রিয়তায় ঘাটতিই নাকি প্রার্থী পরিবর্তনের কারণ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে বান্দোয়ানে সম্পূর্ণ নতুন মুখ না দিয়ে রাস্ট্র মন্ত্রী সন্ধ্যারাণী টুডুকে প্রার্থী করে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে যে কাজে লাগানোর একটা পরিকল্পনা রয়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্বের, তেমনই অভিমত ওই সূত্রের। ফলে মানবাজার বিধানসভাতেও প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভবনাটা থেকে যাচ্ছেই। তবে কাশীপুর নিয়ে বিশদে চিন্তা ভাবনা চলছে। সূত্রের দাবি, কাশীপুর বিধানসভা ক্ষেত্রে বর্তমান বিধায়কের পরিবার তন্ত্রের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই দলীয় পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। কিন্ত বাধ সাধছে বর্তমান বিধায়কের নিজের এলাকার ভোটারদের একাংশের উপর প্রভাব। যা দলের রাজ্য নেতৃত্বের একাংশও নাকি অনুভব করেন। সম্প্রতি মদন মিত্রের জনসভার জনসভায় লোকসমাগমের বিষয়টি টেনে ওই সূত্রের অভিমত, এটা তো স্বপন বাবুর পক্ষেই সম্ভব। বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে জেলার যে কটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের চরম বিপর্যয় ঘটেছিল তারমধ্যে বাঘমুন্ডি অন্যতম। এই বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস বিধায়কের প্রভাব ও সাম্প্রতিক বিজেপি উত্থানের পাশাপাশি বামপন্থীদের একটা বড় পকেট ভোট রয়েছে। তাই এক্ষেত্রে দলের যুব সংগঠনের তরতাজা কোন প্রতিনিধিকে প্রার্থী করে তাঁর সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে কাজে লাগানোর ছক করতে পারে দল।
তবে জেলার সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঠিক কী, তার কোন সদুত্তর এই মূহুর্তে দলীয় সূত্রে পাওয়া যায় নি। এই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক রাজ্যের পূর্ণ মন্ত্রী তথা দলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত নিজে। ক্ষোদ মন্ত্রীর প্রার্থী টিকিট পাওয়াতে কি তাহলে কোন সংশয় রয়েছে? প্রশ্নের অবশ্য সরাসরি কোন উত্তর পাওয়া না গেলেও শান্তি বাবুকে বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনরায় প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলের কারো কারো মত। তাঁদের দাবি, বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বলরামপুরে দলের বিপর্যয় স্থানীয় এক দাপুটে দলীয় নেতা ও তাঁর অনুগামীদের ওপর ক্ষোভ। বিধায়কের বিরুদ্ধে তেমন ক্ষোভ নেই। তবে জয়পুর বিধানসভার দলীয় কোন্দল মেটাতে শান্তিরাম মাহাতকে বসানো হবে না কি বলরামপুর পুনরুদ্ধারে ওনার নম্র ব্যবহারকে কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে সন্দিহান দলের একাংশ।
তবে প্রার্থী বাছাইয়ের গোটা পর্বটি যে টিম পি কে-র গভীর অনুসন্ধান মূলক পর্যবেক্ষণের পরেই চূড়ান্ত হবে তেমনই জানা গিয়েছে। সেই পর্যবেক্ষণ চলছেও জেলাজুড়ে। টিম পি কে-র পর্যবেক্ষণ বিষয়ে দলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে প্রত্যেক বিধানসভার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের একাধিক নেতা-নেত্রীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মোট ভোটারের একটা নির্দিষ্ট শতাংশ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ভোটারদের কাছে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার সম্ভাব্য একাধিক নামের তালিকার মধ্যে প্রার্থী হিসেবে কাকে বেশি পছন্দ, ফোনে জিজ্ঞাসা করছেন পি কে টিমের সদস্যরা। মানুষের উত্তরের ভিত্তিতে বিধানসভাগুলির সবচেয়ে জনপ্রিয় নামটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তৃণমূলের জেলা কমিচির এক সদস্য বলছেন, এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী হবে নির্বাচনে দলের জয় লাভের পক্ষে। কেননা ভোটারদের মধ্যে থেকেই উঠে আসছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের জনপ্রিয় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। জয়পুর, রঘুনাথপুর সহ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে টিম পি কে-র যে এরকম ফোন ইতিমধ্যেই গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বেশ কিছু সাধারণ ভোটারের কাছেও অবশ্য একথা জানা গিয়েছে। তবে তাঁরা কোনভাবেই নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নন।
শেয়ার করুন