নিজস্ব সংবাদদাতা, বলরামপুর, ৭ অক্টোবর ২০২১ঃ
সারা দেশের লাক্ষার প্রাণ কেন্দ্র বলরামপুর। তবে গত কয়েক বছর ধরে এই ব্যবসায় মন্দা দেখা গিয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে গালা বা লাক্ষার কদর থাকায় কোন রকম ভাবে ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন রকম সমস্যা, যেমন ছোটো ব্যবসায়ীদের কাছে আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় কাচামালকে তৈরী করতে অসুবিধায় পড়তে হয়, এবং যে সকল ব্যবসায়ীরা মেশিন কীনতে পেরেছে তারা কাচামাল ধোয়ার পর যে বর্জ্র্য জল বার হয়ে যায় সেই জল চাষ জমিতে গেলে ফসল নষ্ট হয়, পুকুরে গিয়ে মিসলে পুকুরের জল দূষণ হয় ফলে সেই ব্যবসায়ীকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। যদিও বলরামপুরের লাক্ষা কুটির শিল্পের উন্নয়ন করার কথা অনেক বার ভেবেছে সরকার, তবে বাস্তবে রুপান্তরীত না হয়ে পড়ে রয়েছিলো দীর্ঘদিন ধরে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ততকালীন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায়, বলরামপুরে লাক্ষা শিল্পকে কেন্দ্র করে ক্লাস্টার গড়ার কথা ঘোষনা করেন। লক্ষ ছিলো এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছোট বড়ো ব্যবসায়ীরা এক ছাদের তলায় প্রসেসিং ইউনিট গড়ে কাজ করবেন। কিন্তু ওই ঘোষনা দীর্ঘদিন ফাইল বন্দি হয়েই পড়েছিলো। পার হয়ে যায় বেশ কয়েকটী বছর। রাজ্যের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১-২০১২ সালে ক্লাস্টার গড়ার ভাবনা বাস্তবায়ীত হয়, এখানের বেশ কয়েকজন ছোট বড়ো ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে গঠন হয় “বলরামপুর শেল্যাক ক্লাস্টার শিল্প সমবায় সমিতি লি:”। প্রশাসনের তরফ থেকে তাদেরকে জানানো হয় যে, শেল্যাক ক্লাস্টার করার জন্য সরকার এই প্রকল্পে ব্যায়ের ৯০ শতাংশ টাকা খরচ করবে এবং এবং বাকি ১০ শতাংশ টাকা সমবায় সমিতিকে দিতে হবে।
পুরুলিয়া- টাটা ৩২ নম্বর জাতীয় শড়কের ধারে ২.৬৪ একর জমি দেয় সরকার।
২০১৮ সালের ২১ শে মার্চ শিল্যানাশের মধ্য দিয়ে কাজ শুরু হয়। কিছু দিন কাজ হওয়ার পর অতিমহামারী করোনার জন্য লকডাউন থাকায় ণির্মানের কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ তিন বছর পর ৭.১০.২০২১ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে পূজোর মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো “বলরামপুর শেল্যাক ক্লাস্টার “-এর। উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতী সুজয় বন্দোপাধ্যায়, মেন্টর অঘোর হেম্ব্রম, কো-মেন্টর জয় ব্যানার্জী, বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ সভাপতি, এবং জেলা পরিষদের একাধিক কর্মাধক্ষ্যগণ। এদিন এই ক্লাস্টারের সেক্রেটারি রঞ্জীত মাঝী জানান, আমরা কাঁচা মাল ধোয়ার কাজ শুরু করেছি এর ফলে ছোট লাক্ষা ব্যবসায়ীরা এখানে এসে মাল ধোয়াতে পারবে এবং এর যে জল সেই জলকে টিটম্যন্ট ওয়াটার প্লান্টের মাধ্যমে সেই জল পুনরায় ধোয়ার কাজে লাগবে। এই শেল্যাক ক্লাস্টারটি গড়ে উঠার পর খুশির হাওয়া দেখা গেছে লাক্ষা ব্যবসায়ী মহলে।
