নিজস্ব সংবাদদাতা, বরাবাজার, ৫ নভেম্বর ২০২১ঃ
নেই কোনো মন্দির নেই কোনো মাতৃমূর্তি এইভাবেই নিরাকার রূপে পূজো হয় বরাবাজার নামো পাড়ার বেলতলা কালী।
ইতিহাসে বেলতলা কালি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৮১০সাল থেকে বেলতলা কালী পুজো হয়ে আসছে। বরাভূম রাজ এস্টেটের রাজ সিংহাসন লাভের বিষয়ে কলকাতা দেওয়ানী আদালতে একটি মামলাচলছিল। সেই সময় কলকাতায় কালীঘাটে গঙ্গার ঘাটে জনৈক কালী সাধকের সঙ্গে রাজা গঙ্গা গোবিন্দ সিং এর দেখা হয়। স্নান সেরে ওঠার সময় আনন্দ ত্রিপাঠী নামে ওই কালী সাধক রাজা গঙ্গা গোবিন্দ সিং কে দেখে বলেন তার কপালে রাজ তিলক আজ হবে। সেদিনই দেওয়ানী আদালতের রায়ে গঙ্গা গোবিন্দ সিং বরাভূম রাজ এস্টেটের রাজা হিসাবে আদালতের রায় পান। পরে রাজা , কালী সাধক আনন্দ ত্রিপাঠী কে বরাবাজার আসার জন্য অনুরোধ জানালে, তিনি বলেন ,কালীঘাটে মায়ের আদেশ ছাড়া আমি যেতে পারব না ।পরে স্বপ্নাদেশ হয়। কালীঘাটে মায়ের আদেশ পেয়ে , রাজা কে বলেন, মা আদেশ দিয়েছেন ।আমি আপনার সঙ্গে যেতে পারি। এভাবেই ওই সাধক রাজ পরিবারে আসে এবং পরবর্তীতে সেই স্বপ্নাদিষ্ট কালি প্রতিষ্ঠিত হয় নামো পাড়ায় বেল বাগানে। ১৮১০সালে পঞ্চমুন্ডির আসনে প্রতিষ্ঠিত । বেলতলা কালীর কোন মন্দির নেই। নেই কোন মাতৃমূর্তি। খোলামেলা প্রাঙ্গণে মায়ের পুজো হয়ে আসছে। মাটির হাতি ও মাটির ঘোড়া সেখানে দেখতে পাওয়া যায়। মায়ের প্রসাদ হিসাবে মাছ খিচুড়ি ছাগমাংস অর্পণ করা হয়। কালীপুজোর রাতে ভক্তরা নিয়ে আসেন চালডাল শাকসবজি ।জানাযায় ত্রিপাঠী পরিবারের সদস্যদের কাছে। ত্রিপাঠি পরিবার সূত্রে জানা যায় এখানে কোন মন্দির নির্মাণ করা নিষেধ রয়েছে। করা যাবেনা মাতৃ মূর্তি। নিরাকার রূপে মা এখানে পূজিতা হন।সারা বছর ধরেয় চলে পূজা।



