নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :৬ মার্চ, ২০২১
সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড়। ‘পদ্ম’ প্রতীক না হলে বাঘমুন্ডিতে বিজেপি সমর্কদের ভোটে অংশগ্রহন না করার হুমকি। এমনকি বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত না মানারও হুমকি ছড়িয়ে পড়ছে বাঘমুন্ডি বিধানসভার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে। শনিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া জেলার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। তালিকায় প্রকাশ বাঘমুন্ডি বিধানসভার আসনটি জোট সঙ্গী আজসুকে ছেড়ে দিয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই বিধানসভা এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার রেশ দেখা যায় জেলা বিজেপির বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে।
বাঘমুন্ডি বিধানসভায় বিজেপি নিজের প্রতীকে না লড়লে দলীয় সমর্থকদের একাংশ যে ভোটে অংশগ্রহন করছে না, হুমকি তেমনও দেওয়া হয়েছে। এমনকি কবিতার ছন্দে কর্মীদেরই কেউ কেউ বিদ্রুপ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন ‘বিজেপি-র পচা কলা /ভোট দিতে গায়ে জ্বালা’। বিধানসভা এলাকার যুব মোর্চার বিভিন্ন গ্রুপে তো বিজেপির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘বিজেপি-র প্রতীকে প্রার্থী চাই, নয়তো…’। অর্থাৎ দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না হলে বিধানসভায় বিজেপি যে চরম বিপাকে পড়তে পারে, ইঙ্গিত তেমনই।

শুধু তাই নয়, বিজেপি কর্মীরাই শনিবার নিজেদের দলীয় গ্রুপে প্রচার করেছেন বাঘমুন্ডি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুশান্ত মাহাতর ভয়েই নাকি বিজেপি নিজেদের প্রতীকে প্রার্থী দিল না। যুব মোর্চার এক নেতার সরাসরি প্রশ্ন, ‘লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় বিজেপি কি জেতে নি? তাঁর আরো প্রশ্ন বাঘমুন্ডি বিধানসভা ক্ষেত্রেই তো বিগত এম পি ভোটে সবচেয়ে বেশি (৫২ হাজার) ভোটে বিজেপি লিড দিয়েছিল। তাহলে কেন বাঘমুন্ডি বিধানসভাকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দিয়ে বঞ্চিত করা হল? এর ফলে ভোটে যে দলকে ভুগতে হবে তেমনই মত ওই যুব মোর্চা কর্মীর।

এ বিষয়ে ফোন করা হয়েছিল বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীকে। তাঁর বক্তব্য, সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রশ্ন ছিল, বাঘমুন্ডি বিধানসভাতেই যেখানে আপনাদের সবচেয়ে বেশি লিড বিগত লোকসভা নির্বাচনে, সেখানেই এই সিদ্ধান্ত কি বিজেপিকে বিপাকে ফেলবে? তা অবশ্য বিদ্যাসাগর বাবু মানছেন না। তিনি বলেন, আমাদের দলে কেন্দ্রীয় কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাই চূড়ান্ত। কিছু সময় পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন বিদ্যাসাগর বাবু।
শেয়ার করুন