নিজস্ব সংবাদদাতা , বাঘমুন্ডি
৮ সেপ্টেম্বর , ২০২০

জঙ্গলমহল জেলা পুরুলিয়ার অযােধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রত্যন্ত বাঘমুন্ডি ব্লক।চলতি সপ্তাহেই বাঘমুন্ডি বাসীদের স্বনির্ভর করতে ৭০টি দোকান ঘর বিশিষ্ট কর্মতীর্থ উদ্বোধন করা হল। এছাড়াও রমরমিয়ে চলছে বাঘমুন্ডির কিষাণ মান্ডির স্টলগুলাে। সকাল হলেই ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনাগােনা হয় কয়েকশাে এলাকাবাসীর।কিন্তু আজকের তারিখেও বাঘমুন্ডিতে নেই কোন নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড, নেই কোন প্রতীক্ষালয় তথা বাজারে নেই কোন শৌচাগার। এর জন্য নিত্যদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষদের সমস্যায় পড়তে হয়। এলাকাবাসীরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোেগ জেলা ও ব্লক প্রশাসন কেন এ বিষয়ে ভাবছেন না।

বাঘমুন্ডি থানার সামনেই বাঘমুন্ডি বাসস্টপ। রাস্তার উপরে দাঁড়িয়েই হয় প্যাসেঞ্জারদের বাসে ওঠা ও নামা। বাঘমুন্ডি থেকে পুরুলিয়া ও ঝালদা রােডে প্রত্যহ প্রায় অনেক বাসের আসা যাওয়া। একই সময় দুটি বাস দাঁড়িয়ে থাকলে রাস্তা পেরনাে দুঃসহ। নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডের অভাবে প্যাসেঞ্জারদের বাসের অপেক্ষা করতে হয়। কোনও দোকানের আশ্রয় নিয়ে। বাসে স্কুল ও টিউশন পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদেরও একই সমস্যা।

বর্তমানে যেখানে বাস দাঁড়ায় সেই এলাকার দোকানদার তাপস লাহার দাবি, দীর্ঘদিন থেকে এই সমস্যা থাকলেও এবং অন্যত্র ফাঁকা জায়গা থাকা সত্বেও প্রশাসনের তরফে স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড এবং শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি। স্থানীয় দোকানদারদের এমনও দাবি সারা দিনে বহু মানুষ শৌচালয় কোথায় আছে, তা জানতে দোকানে জিজ্ঞাসা করতে আসেন।

এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক তথা ট্যুরিস্ট গাইড বিশ্বনাথ কর জানান, জেলা জুড়ে এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে বাসস্ট্যান্ড, শৌচাগার ও প্রতীক্ষালয় নেই কিন্তু বাঘমুন্ডি তা থেকে বঞ্চিত। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভ্রমণপিপাসুরা বাঘমুন্ডি ঘুরে যাচ্ছেন, বাঘমুন্ডির বিভিন্ন সৌন্দর্য তাদের আকৃষ্ট করলেও শৌচাগার না থাকায় তারা ভীষণভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাঘমুন্ডির বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা বই বিক্রেতা সমীর মুখার্জী জানান, আগে অনেকবার প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানালেও প্রশাসন কোনাে ব্যবস্থা নেয়নি। ইদানিং কিষাণ মান্ডিতে শৌচাগার তৈরি হলেও এখনাে তা চালু করা হয়নি। বাজারে প্রতীক্ষালয় ও শৌচাগার অত্যন্তভাবে দরকার।


শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page