নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝালদা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আগষ্ট ২০২২ঃ

বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে আমানতকারিরা টাকা তুলতে গেলে টালবাহানা করে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। টাকা না তুলেই ফিরে আসতে হচ্ছিল গ্রাহকদের বলে অভিযোগ। এরই মাঝে গত দু’দিন ধরে খোদ শাখা ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টারও নিখোঁজ। তাই জমাকৃত রাশি ফেরত সহ গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে বিক্ষোভে সামিল হলেন স্থানীয় আমানতকারী গ্রামবাসীরা। ঘটনা ঝালদা শহর সংলগ্ন পাটঝালদা গ্রামের শাখা ডাক ঘরের। এদিন সকাল থেকেই হাতে হাতে জমাকৃত রাশির সার্টিফিকেট নিয়ে আমানতকারিরা তাঁদের টাকা ফেরতের দাবির পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তেরও দাবি করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের মহিলা ও পুরুষরা। বিক্ষোভে সামিল আমানতকারীদের মধ্যে মুক্তা রায়, মণিদীপা ব্যানার্জি, কিশোর রায়, প্রবীর কুইরিরা বলেন, বহু কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থ তাঁরা এই শাখা ডাকঘরে জমা রেখেছিলেন। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁরা টাকা তুলতে এলে টালবাহানা করে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ফলে প্রয়োজন সত্ত্বেও টাকা না তুলেই ফিরে যেতে হচ্ছিল বলে দাবি তাঁদের। প্রবীর কুইরি, মণিদীপা ব্যানার্জিদের অভিযোগ, বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় কয়েকজন আমানতকারী ঝালদা উপ ডাকঘরে খোঁজখবর করতে গেলে জানতে পারেন, সরকারিভাবে তাঁদের টাকা জমাই পড়েনি। এদিকে গত দু’দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন পাটঝালদা শাখা ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টার সম্যক ভট্টাচার্য। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছাড়িয়েছে এলাকায়। এদিন বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তাঁদের টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন পোষ্ট মাস্টার। গোটা বিষয়টিতে স্থানীয়রা উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেন। পোষ্ট মাস্টার সম্যক ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্য তীর্থ সুনীল ভট্টাচার্য বলেন, আমানতকারিদের টাকা সত্যিই খোয়া গেলে জমি বিক্রি করে সেই রাশি ফেরত দেওয়া হবে পরিবারের পক্ষ থেকে। তবে দু’দিন ধরে তাঁর ভাইপো তথা পাটঝালদা শাখা ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টার সম্যক ভট্টাচার্য নিজেই নিখোঁজ। তাতে গোটা পরিবার ভীষণ দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে ঝালদা উপ ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টার মধুমঙ্গল দাস এদিন জানিয়েছেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জাননো হয়েছে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page