নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, মঙ্গলবার, ১৬ আগষ্ট ২০২২ঃ
বকেয়া রয়েছে বেতন। জুলাই-এর বেতন এখনও পাননি পুরুলিয়া পৌরসভার সাফাই কর্মীরা। তাই গত শনিবার থেকে পুরুলিয়া পৌর শহরজুড়ে বন্ধ রয়েছে সাফাই কাজ। যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তার ওপর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নর্দমা দিয়ে বইছে কালো জল। সাফাই কর্মীদের পক্ষে বাসুদেব বাউরি, সরোজ স্যামুয়েলরা বলেন, নোটিশ দিয়ে ধর্মঘট ডাকিনি আমরা। কিন্তু বকেয়া বেতন না পেলে সাফাই কর্মীরা আর কাজ করতে চাইছেন না। প্রত্যেকেই ধার-ঋণে জর্জরিত হয়ে গিয়েছেন বলে দাবি বাসুদেব বাউরির।
এক সপ্তাহ আগেই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন তাঁরা। পৌর কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছিল মনসা পুজোর আগেই বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে। তা না হওয়ায় শনিবার থেকেই শহরের সাফাই কাজ বন্ধ করেছেন পৌরসভার সাফাই কর্মীরা। তবে সাফাই কাজ বন্ধ হতেই আজ, মঙ্গলবার সকালে সাফাই কর্মীদের সঙ্গে গাড়িখানা শেডে বৈঠকে বসেন পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। প্রায় ঘন্টা দেড়েকের বৈঠকেও সমস্যা সমাধান হয়নি বলে দাবি কর্মীদের। সাফাই কর্মী পাপন বাউরি, স্বপন দরিপা, তাপস বাউরিরা বলেন, কথা ছিল মনসা পুজোর আগে পুরো বেতন মিটিয়ে দেওয়ার। তাঁরা আরো বলেন, সকালের বৈঠকে আপাতত দেড় হাজার টাকা করে কর্মীদের দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পৌরপ্রধান। কেননা পৌরসভার তহবিলে না কি ঘাটতি। কর্মীদের সরাসরি দাবি, সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩৬০০/-টাকা। পুরো বেতন না পেলে কাজ বন্ধ থাকবে, দাবি সাফাই কর্মীদের। সরোজ স্যামুয়েল, বাসুদেব বাউরি, রবি বাউরি প্রমুখরা সরাসরি এদিন কাউন্সিলরদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, পৌরসভায় যদি এতই তহবিলের ঘাটতি রয়েছে, তাহলে প্রতিমাসের ৫ তারিখের মধ্যেই কাউন্সিলররা কুড়ি হাজার টাকা করে বেতন তুলছেন কি করে? সরোজ স্যামুয়েলের এদিন সরাসরি দাবি, কাউন্সিলররা তিন হাজার টাকা নিয়ে তহবিলের ঘাটতি পূরণ করুক। কেন সারা মাস ধরে সকাল থেকে নোংরা ঘেঁটেও আমরা বেতন পাবনা? প্রশ্ন তাঁর। পুরুলিয়া পৌরসভার এক সূত্রে জানা গিয়েছে, বোর্ড সদস্যদের নিয়ে আজই সমস্যা সমাধানে জরুরি বৈঠক ডাকছেন পৌরপ্রধান। সাফাই কর্মীরা অবশ্য বলছেন, পুরো বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত না হলে পুরুলিয়া পৌর শহরজুড়ে বন্ধ থাকবে সাফাই কাজ।

