নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া:
মকর সংক্রান্তির আগে ব্যাপক ভিড় পুরুলিয়ার বিভিন্ন কাপড় দোকান ও বাজার গুলিতে। ছোট বড় কাপড় দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতেও শীতের পোশাক থেকে রকমারি জামা কাপড় কেনাবেচা চলছে শহরের একাধিক এলাকায়।
স্থানীয় এবং ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শপিং মল এবং বড় কাপড় দোকান ছাড়িয়ে মকর সংক্রান্তির আগে সবচেয়ে ভিড় রয়েছে শহরের ফুটপাতের দোকানগুলিতে। কোথাও বড় দোকানের সামনে বড়সড় সেলে বিক্রি হচ্ছে কচিকাচাদের জামা কাপড় থেকে শুরু করে বড়দের রকমারি পোশাক। কোথাও আবার আলাদাভাবে ফুটপাতে শীতের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। ওই বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে জানা গিয়েছে, অধিকাংশই শুধুমাত্র মকর সংক্রান্তির আগেই বিভিন্ন জায়গা থেকে রকমারি পোশাকে এনে ফুটপাতে বিক্রি করেন। শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের। ফুটপাতেই প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার কেনা বেচা হয় শহর জুড়ে। কাপড়গুলি সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাতে জামা কাপড় বিক্রেতা শাকিল আহমেদ, তশাম হাওয়ারী বলেন, মকর সংক্রান্তির আগে ফুটপাতের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। এতটাই ভিড় থাকে যে বড় দোকানে প্রবেশ পর্যন্ত করা যায় না। তারা আরো বলেন, এই সময় বিভিন্ন দোকান থেকে যেমন সেল দেওয়ার রীতি রয়েছ, তেমনি আবার অনেকেই শুধুমাত্র মকর সংক্রান্তির সময়ে কয়েক লক্ষ টাকার কাপড় বিক্রি করে থাকেন। পুরুলিয়া শহরে বরাবাজার থেকে কাপড় কিনতে আসা বুদ্ধেশ্বর মাহাত, অখিল বাউরী, সুমিতা মাহাত বলেন, গ্রামে অনেক সময়ই দুর্গাপূজার সময় বাড়ির সবার নতুন কাপড় কেনা হয় না। তবে মকর সংক্রান্তির পরবে নতুন কাপড় চাই। এই সময় শীতের পোশাক ও যেমন কেনা হয়, তেমনি আবার অন্যান্য নতুন পোশাকে না হয়। ফুটপাতের দোকানগুলিতে ভালো ছাড় পাওয়া যায়। এদিনই জামা কাপড় কিনতে আসা অসীম রাজোয়াড় বলেন, পুরুলিয়াতে মকর পরবের উন্মাদনা যে কোন বড় উৎসব কেউ হার মানাবে। গোটা জেলা জুড়ে মকর পরব কে ঘিরে প্রত্যেকের মধ্যে উদ্দীপনাটাই আলাদা থাকে। মকর সংক্রান্তির দিন সকালে নদীতে বা পুকুরে ডুব দিয়ে নতুন জামা কাপড় পড়ার রীতি রয়েছে। এই রীতি মেনে মকর সংক্রান্তির আগের সময় পুরুলিয়া শহরের এসে প্রতিবছর জামা কাপড় কেনা হয়। তিনি আরও বলেন, পুরুলিয়াতে অনেক বড় দোকান এবং শপিংমল রয়েছে ঠিকই। তবে ফুটপাতে সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। তাই মকর সংক্রান্তির আগে ফুটপাতেই সবচেয়ে বেশি ভরসা।
