নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঘমুন্ডি ও পুরুলিয়া, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২ঃ
মানসিকভাবে অসুস্থ যুবককে খুন করে সুইসা-তুনতুড়ি অঞ্চলের শালডাবরার সুবর্নরেখা নদীর তীরে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে ওই যুবকের মা এবং দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করল বাঘমুন্ডি থানার পুলিস। অভিযুক্তরা সুর্বণরেখা নদীর তীরে ওই যুবককে গভীর রাতে কুপিয়ে খুনে করার পর মাটি খুঁড়ে পুঁতেও দেয় বলে অভিযোগ। পরে রক্তাত্ব হাত পা সুবর্ণরেখা নদীর জলে ধুয়ে তারা তিনজন বাড়ি চলে আসে। শুক্রবার ধৃতদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে বাঘমুন্ডি ব্লকের সুইসা ফাঁড়ি এলাকার অন্তর্গত শালডাবরা গ্রামের বাঁশটাঁড় টোলা এলাকায় সুবর্নরেখা নদীর ধারে মাটি খুঁড়ে পরীক্ষিৎ সিং মুড়া নামের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই যুবকের গলায় এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই যুবককে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরেই মৃতের মা এবং এক ভাইকে আটক করে জেরা শুরু করে। পরে আরেক ভাইকেও আটক করে পুলিশ। রাতের দিকে পুলিস তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম রমনী সিং মুড়া, শবরণ সিং মুড়া এবং মহেশ্বর সিং মুড়া। এদের মধ্যে মৃতের মেজো ভাই শবরণ সিং মুড়াকে পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নেয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রমনী সিং মুড়ার স্বামী আগেই মারা গিয়েছেন। তিন ছেলে নিয়েই তার সংসার। পরীক্ষিৎ সিং মুড়ার দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চিকিৎসা চলছিল। গাগী গ্রামে পরীক্ষিৎবাবুর অত্যাচারে গ্রামবাসীরাও অতীষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। মাঝে মাঝেই পাড়া প্রতিবেশীরা ওই যুবকের বিরুদ্ধে তার বাড়িতে অভিযোগ জানাতে আসতেন। কখনও বা ঝগড়াও করতেন। বাড়িতেও মা এবং ভাইদেরও ওই যুবক মাঝেমাঝেই মারধর করতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষিৎবাবুকে সামলাতে গিয়ে কার্যত অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন তাঁর মা এবং ভাইয়েরা। বাঘমুন্ডি থানার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দাদার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এক ভাই টাটাতে কাজে চলে গিয়েছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশের জেরাতে খুনের কথা ধৃতরা স্বীকার করে নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খাওয়া দাওয়া করার বাহানাতেই পরীক্ষিৎকে সুবর্ণরেখা নদীর ধারে ডেকে নিয়ে যায় তাঁর মা এবং ভাইয়েরা। সেখানে পৌঁছতেই ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ওপর চড়াও হয় তাঁর ভাইয়েরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেখানেই তাকে কোপানো শুরু হয়। গলায় এবং মাথার পেছনের দিকে একাধিকবার কোপানো হয় বলে অভিযোগ। পরীক্ষিৎবাবুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই প্রমাণ লোপাট করতে মাটি খুঁড়ে তাকে পুঁতে ফেলা হয়। ওই যুবকের মায়ের সামনেই গোটা ঘটনাটি ঘটে। ছেলেকে মাটি চাপা দেওয়া হয়ে যাওয়ার পরই অপর দুই ছেলেকে নিয়ে সুবর্ণরেখা নদীতে নামেন রমনী সিং মুড়া। সেখানে রক্তাত্ব হাত পা ধুয়ে নেয় তারা। জামা কাপড়ও পরিবর্তন করে। ছেড়ে যাওয়া কিছু জামা কাপড় সেখানেই থেকে যায়। বৃহস্পতিবার পাথরের চাঁইয়ের পাশ থেকে সেগুলিও উদ্ধার করে পুলিশ। বাঘমুন্ডি থানার পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ছেলের পাগলামি আর সহ্য করতে না পেরেই অন্য দুই ছেলেকে নিয়ে পরীক্ষিৎবাবুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে মা। শুক্রবার ধৃতদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে শবরণ সিং মুড়ার ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত এবং বাকিদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।


