নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দোয়ান : আর বনদপ্তরের উপর ভরসা রাখতে পারছে না গ্রামবাসীরা।বাঘের খোঁজে এবার রাইকা পাহাড় সংলগ্ন পাঁচটি গ্রামের মানুষ জোট বেঁধে জঙ্গলে ঢুকে বাঘ তাড়াবে। অবশেষে গ্রামবাসীদের এই সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে বনদপ্তরের কর্মীরাও গ্রামবাসীদের সঙ্গে জঙ্গলে প্রবেশ করে বাঘের খোঁজে তল্লাশি অভিযানে। শনিবার দুপুরে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া বনদপ্তরের কর্মীদেরকে এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়। এরপর গ্রামবাসীদেরকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ টি দলে ভাগ হয়ে পৃথক পৃথক ভাবে ভাঁড়ারী পাহাড়ে বাঘের খোঁজে অভিযান চালায়। এছাড়াও সঙ্গে ছিল চারটি ট্রাংকুলাইজ টিম এবং পাঁচটি মনিটারিং টিম এবং সুন্দরবন থেকে আসা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিশেষ প্রশিক্ষিত টিমের সদস্যরা। গোটা পাহাড় জঙ্গল চিৎকার করে জোরালো শব্দবাজী ফাটিয়ে বাঘকে তাড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। বনদপ্তরের এই বজ্রআঁটুনী অভিযান একটানা চলবে ৪৮ ঘন্টা ধরে। রাতে নজরদারি চালানোর ব্যবহার করা হবে নাইটভিষণ ট্রোন ক্যামেরা । এই অভিযানেও যদি বাঘকে বাগে না আনা যায় তাহলে আবারও নতুন পরিকল্পনা গ্রহন করবে বনদপ্তর।
শুক্রবার রাতে বাঘ রাইকা পাহাড় সংলগ্ন ভাঁড়ারী পাহাড়ের চতুর্দিকে ঘিরে রাখা জাল টপকে পালিয়ে যায় মানবাজার দু’নম্বর ব্লকের নেকড়া গ্রামের পাশ দিয়ে হাতিরামগোড়ার জঙ্গলে। সেখানে বনদপ্তর এর বাঘ নিয়ে সচেতনতার যে প্রচার গাড়ি, প্রচার করছিল তার মুখোমুখি হয় বাঘ। এবং তারপরই ওই বাঘ ইউটার্ন নিয়ে আবার রাইটার জঙ্গলে প্রবেশ করে রাত্রির অন্ধকারে। সুতরাং বাঘের আতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ভাঁড়ারী পাহাড় তলির কেন্দাপাড়া যমুনাগোড়া, রাহেমদা কেন্দডুংরী সহ একাধিক গ্রামে। গতকাল রাত্রে রাহেমদা গ্রামের শবর পাড়ায় বাঘ ঢুকে একটা কুকুরকে ধরে নিয়ে যায় এরপরে আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে শনিবার সকাল থেকেই বনদপ্তরের শীর্ষ কর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন বাঘকে বাগে আনতে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেয় বনদপ্তর জঙ্গল অভিযানের।
