নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪:
পশ্চিমবঙ্গ ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক শিক্ষক পরিবার সংগঠনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার প্রথম বর্ষ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো পুরুলিয়া টাউন হাইস্কুলে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীপতি কুইরি, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষক,শিক্ষিকারা। মূলত সমগ্র শিক্ষা মিশনের অন্তর্গত ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক বিভাগে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধীনে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বৃত্তিমূলক বিষয়গুলি (যেমন : অটোমোটিভ, প্লাম্বিং, ট্যুরিজম এণ্ড হসপিটালিটি, আইটি, অ্যাপারেল ইত্যাদি) পুরুলিয়ায় ৬০ টি সরকার ও সরকার পোষিত উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন চলছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ২ টি করে বিষয় চালু আছে। ২০১৩ সালে সারা রাজ্যে ৯৩ টি স্কুলে মাত্র ৪ টি বিষয় নিয়ে চালু হলেও বর্তমানে রাজ্যের ১৬১১ টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ টি বৃত্তিমূলক বিষয়ের পঠন পাঠন চালু রয়েছে । এটি মূল শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকলেও স্কুল শিক্ষা দপ্তর কারিগরী দপ্তরকে দিয়ে পরিচালনা করছে এবং এই সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা কারিগরী দপ্তর বেশ কিছু বেসরকারী সংস্থাগুলোকে দিয়ে “ভোকেশনালাইজেশন অফ্ স্কুল এডুকেশন” পরিচালনা করছে, যার ফলে এই বিষয়ে নিযুক্ত শিক্ষকদের নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তাঁদের সাথে বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারী সংস্থা দ্বারা নিয়োগ বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগের দাবি নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। জেলা সম্মেলনে শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি এবং বেতন পরিকাঠামোর দাবী নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং জেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীরা যাতে হাতে কলমে এই বৃত্তিমূলক বিষয়গুলি শিখতে পারে বা পঠন পাঠনে সুবিধা পায় সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বেসরকারী সংস্থাগুলি অনৈতিকভাবে শিক্ষকদের প্রাপ্য বেতন থেকে পিএফ এবং ইএসআইসি এর দুটো শেয়ারের অংশ কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্মেলনে নতুন জেলা কমিটি গঠিত হয়। জেলা আহ্বায়ক হিসেবে শোভন মাজি, জেলা সম্পাদক সৌভিক মাজী এবং জেলা সভাপতি সুপ্রতিম ওঝার নাম নির্বাচিত করে ঘোষণা করা হয়।
এই সম্মেলনে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গ এনএসকিউএফ শিক্ষক পরিবারের রাজ্য সম্পাদক শুভদীপ ভৌমিক বলেন “শিক্ষকরা ছাত্রদের ভবিষ্যতের দিশা দেখাচ্ছেন এবং স্বনির্ভর করে তুলছেন এই হাতে কলমে শিক্ষার বিষয়গুলি থেকে অথচ যাঁরা শিক্ষকতা করছেন দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তাঁদের ভবিষ্যতের সুনিশ্চিত কোনো দিশা সরকার করতে পারছে না, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের, অবিলম্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখছি আমাদের সরকারী স্বীকৃতি এবং সরকারী সুযোগ সুবিধা দেওয়া হোক। আমরা যোগ্য হয়েও দীর্ঘ বছর ধরে বঞ্চিত, এবার একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, শিক্ষক হয়ে বারংবার রাস্তায় নামতে আমাদের লজ্জা করে।”



