নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩:
অবশেষে জেলা আদালত ও জেলাশাসক চত্বরের ফুটপাতের অবৈধ দখল হটাতে নেমে পড়ল পুরুলিয়া পৌরসভা ও জেলা পুলিশ প্রশাসন। আজ, শনিবার পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অম্লান কুসুম ঘোষ, ডি এস পি ট্রাফিক, আইসি সদর থানা সহ জেলা পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভার একটি দল জেলা আদালত ও সমগ্র জেলাশাসক দপ্তর চত্বরে অভিযান চালায়। সংশ্লিষ্ট স্থানের ফুটপাত ও রাস্তার পাশের স্থান দখল করে থাকা দোকানদারদের প্রাথমিকভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁদের কারবার অবিলম্বে অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। পুরুলিয়া জেলা আদালত ও জেলাশাসক দপ্তরের রাস্তার অবৈধ দখল ঘিরে বিস্তর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৮ সাল নাগাদ এই রাস্তায় যানজটে আটকে পড়েছিল জেলা আদালতের এক বিচারকের গাড়ি। পেছন থেকে কোন অজ্ঞাত দুষ্কৃতির ছোঁড়া পাথরের আঘাতে বিচারকের গাড়ির কাচ ভেঙে গেলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে এরপরও শেষ পর্যন্ত তৎকালীন পৌর প্রশাসন ওই রাস্তার অবৈধ দখল হটিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। গত বছর খানেক সময় ধরে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন রাস্তার অবৈধ দখল হটাতে পৌরসভা অভিযানে নামলেও আদালত ও জেলাশাসক দপ্তর চত্বরের দখল মুক্তি নিয়ে তেমন উদ্যোগ চোখে না পড়ায় পৌর প্রশাসনকে নাগরিকদের বহু সমালোচনাও শুনতে হয়। যদিও পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বারবার জানিয়েছিলেন ধাপে ধাপে শহরের সমস্ত রাস্তার দখলই মুক্ত করা হবে।
শনিবার প্রশাসনিক অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে কোর্ট চত্বরের সবজি বাজারকে পুরুলিয়ার বড়হাটে স্থানান্তরিত করা হয় বলে জানিয়েছেন পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। তিনি বলেন, শিফট ভিত্তিতে চলবে হাট। ওখানে জল, বিদ্যুৎ ইত্যাদির যথেষ্ট সুবিধাও রয়েছে। নবেন্দু বাবু জানান, জেলা আদালতের বিচারক পুরুলিয়া পৌরসভাকে অবিলম্বে কোর্ট চত্বরের রাস্তার পাশের অবৈধ দখল হটিয়ে চত্বরটি যানজট মুক্ত করতে বলেছেন। তা না হলে জেলা বিচারক নিজের জুডিশিয়াল ক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধ্য থাকবেন বলেও না কি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন পৌরসভাকে। একই বিষয়ে তাঁকে চিঠি দিয়েছেন আদালতের রেজিস্ট্রার ও পুরুলিয়ার জেলাশাসকও বলে এদিন জানান পৌরপ্রধান। তাঁর সাফ বক্তব্য, গোটা চত্বরটিই ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরেটের অধীন। পৌরসভা এই এলাকার কারবারিদের কোন অনুমতি দিতেই পারেনা। ফলে ওই এলাকার রাস্তাঘাটের পাশের স্থানে যাঁরা দখল করে কারবার করছেন তাঁরা অবৈধভাবে দখল করে রয়েছেন বলে জানান পৌরপ্রধান। তিনি আরো বলেন, শনিবার এই এলাকার ফুটপাত দখল করে কারবার করা মানুষজনদের অবিলম্বে অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে নিজেরা জায়গা দেখে সরে যান। বলেন নবেন্দু বাবু। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই মূহুর্তে পৌরসভার অধীন তেমন কোন বড় জায়গা নেই, যেখানে কারবারিদের স্থানান্তর করা যাবে। এদিনই পৌরপ্রধান আরো জানান, হাসপাতালটি ৩২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর। ওই রাস্তাটিকেও যানজট মুক্ত করা হবে বলেও জানান পৌরপ্রধান।
শেয়ার করুন