নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ৩০ মে ২০২২ঃ

সিকিউরিটি বা গার্ড রয়েছেন ৪৫ জন। তবু অপরিচ্ছন্ন ও অসুরক্ষিত ‘নিবারণ সায়র’ নিজে। দুদিনের জেলা সফরে এসে সোমবার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক সারলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যেকারনে গত কয়েকদিন ধরে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে চলছিল শহরের সাহেব বাঁধ ও পারিপার্শ্বিক রাস্তাঘাট গুলির জোর সাফাই কাজ। যা দেখে আশপাশের অনেকেরই বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী চলে গেলেই আবার যেমনকার তেমনই হয়ে যাবে’। কি এই যেমনকার তেমন? আশপাশের স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাহেব বাঁধ পুরুলিয়া জেলার গর্ব। এটা একটা জাতীয় সরোবর। সাহেব বাঁধ পরিদর্শনে গার্ডও রয়েছে। অথচ সারা বছর সঠিকভাবে দেখভাল হয় বলে মনেই হয় না। অভিযোগ যত্রতত্র পড়ে থাকে মদের বোতল। সাহেব বাঁধের চতুর্পার্শ্বে স্থায়ী খাবার দোকান অনেক। সেগুলি ছাড়াও সারাদিন ধরে প্রচুর ঠেলাওয়ালারা জীবিকার স্বার্থে খাবারের সামগ্রী নিয়ে পুকুরটির চতুর্দিকে বসেন। সেসব দোকানের আবর্জনাও ভরে থাকে কোথাও কোথাও। বাসিন্দাদের দাবি, গার্ডরা এসব দেখেনই না। সিকিউরিটিদের দেখা পাওয়াই যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁরা বলেছেন, তাহলে বেতনভুখ গার্ড রেখে লাভ কি! এতো সরকারি তহবিলের অপচয়। কেউ কেউ বলছেন, সাহেব বাঁধের বাউন্ডারির গেটও কোথাও কোথাও ভেঙে গিয়েছে। অবাধে যত্রতত্র চলে মাছ ধরা। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগেই আইন ভেঙে মাছ ধরতে জাল ফেলেছিল ‘মাছ-চোরদের’ দল। নিজে রাতে অভিযান চালিয়ে তা হাতেনাতে পাকড়াও করেছিলেন তৎকালীন পৌর প্রশাসক তথা বর্তমান পৌর প্রধান নবেন্দু মাহালি।

পুরুলিয়া পৌরসভার এক সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সরোবর ঘোষনা হওয়ার পর কেবলমাত্র সাহেব বাঁধের সুরক্ষার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪৫ জন সিকিউরিটি গার্ড নিযুক্ত করা হয়েছে। যার জন্য মাসিক প্রায় দুই লক্ষ টাকা খরচ পৌরসভার।

এনিয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুনয় কবিরাজের সঙ্গে কথা বললে তিনিও অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, সাহেব বাঁধের সিকিউরিটিদের কাজের গাফিলতি নিয়ে আমিও বহুবার নানান কমপ্লেন পেয়েছি। সাহেব বাঁধ এলাকায় অবাঞ্ছিত আবর্জনা পড়ে থাকা, বাউন্ডারির গেট ভাঙা, নিয়ম বহির্ভূত মাছ ধরার বহু অভিযোগ বহুবারই সাফাই কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আমাকে জানিয়েছেন। সুনয়বাবু বলেন, বিগত পৌর বোর্ডের সময়ও এনিয়ে আমি আলোচনা করেছিলাম। পরে অবশ্য করোনা পরিস্থিতি, লকডাউন, পৌর নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়া এসব কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে বিষয়টি যে পৌর কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, তা পরিষ্কার স্বীকার করে নিয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page