নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২ঃ

২০১৭ সালের প্রাথমিক টেটে পাশ করিয়ে দেওয়ার নাম করে পুরুলিয়া শহরের এক যুবকের কাছ থেকে অগ্রীম তিন লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল পাড়া থানা এলাকার এক দম্পতি সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে। টেট পাশ করে গেলে চুক্তি অনুযায়ী আরও ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল ওই যুবকের। যদিও টেটে পাশ করতে পারেন নি ওই যুবক। এমনকি যেটাকা অগ্রীম দেওয়া ছিল, তা ফেরৎ চাইতে ওই যুবককে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলা আদালতের মাধ্যমে এবিষয়ে ওই যুবকের বাবা পুরুলিয়া সদর থানাতে এফআইআর করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সদর থানার পুলিস।

পুরুলিয়া সদর থানার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেতিকা পাড়া এলাকার বাসিন্দা স্ববিন কুমার মিত্র অভিযোগ করেন যে, তাঁর ছেলে রঞ্জন মিত্র প্রাথমিকের ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষা দেয়। ওই পরীক্ষা হয়েছিল ২০২১ সালের ৩১ শে জানুয়ারি। পুরুলিয়া মফস্‌সল থানা এলাকার এক মহিলা পাড়া থানা এলাকার এক দম্পতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। ওই দম্পতি নাকি টেট পাশ করিয়ে দিতে পারবে। মোট ৭ লক্ষ টাকা দিলে ওই দম্পতি টেট পাশ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিকে চাকরি করিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে সেই কথা মতো ওই দম্পতিকে অগ্রীম হিসাবে ৩ লক্ষ টাকাও দেন ওই বৃদ্ধ। টাকা নেওয়ার পর থেকেই ওই দম্পতি যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এড়িয়ে চলা শুরু করে। পরে ওই টেট পরীক্ষাতে পাশ করেনি ওই বৃদ্ধের ছেলে। প্রাথমিক স্কুলের চাকরিও হয়নি। চলতি বছরের মে মাসের শেষ থেকে টাকা ফেরৎ দেওয়ার বদলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বদ্ধকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে মুখে কুলুপ এঁটে থাকার নিদানও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সদর থানাতে এবিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানাতে গিয়েও কোনও লাভ হয় নি। গত মাসে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে থানার আইসিকে অভিযোগ পত্র পাঠান ওই বৃদ্ধ। তারপরেও এবিষয়ে পুলিস কোনও পদক্ষেপ না করায় ওই বৃদ্ধ পুরুলিয়া জেলা আদালতের দ্বারস্থ হন। তারপরই আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিস। এবিষয়ে সদর থানার পুলিস জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page