নিজস্ব সংবাদদাতা, হুড়া, শনিবার, ৯ জুলাই ২০২২ঃ

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রধান ও অন্য এক পঞ্চায়েত সদস্য এবং সেক্রেটারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সহ “কাটমানি”-র বিনিময়ে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করার অভিযোগ উঠল হুড়া ব্লকের কলাবনী পঞ্চায়েতে। শুক্রবার ওই পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তথা ঠিকাদার শুভাশিস দাস পুরুলিয়ার জেলাশাসককে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। পঞ্চায়েতের প্রধান সহ অন্য এক পঞ্চায়েত সদস্য ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগের সপক্ষে বেশ কিছু প্রমাণও তিনি জেলাশাসককে দেন বলে দাবি অভিযোগকারির।

প্রসঙ্গত, শুভাশিস দাস কলাবনীরই বাসিন্দা এবং একজন ঠিকাদার। এই পঞ্চায়েতের কাজও তিনি করেন। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েতের টেন্ডার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য জানতে তথ্য জানার অধিকার আইন অনুযায়ী চিঠি করা হয়। কিন্তু আর টি আই-কে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অসম্পূর্ণ ও ভুয়ো তথ্য দিয়ে পঞ্চায়েত বিষয়টি পাশ কাটিয়েছে বলে দাবি শুভাশিস বাবুর। তিনি বলেন, সোলার লাইট লাগানোর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দরপত্র জমা পড়েছে ২০ টি। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে ২০৭ টি। এমনকি সমস্ত দরপত্রের হাতের লেখাও একই ব্যক্তির বলে দাবি অভিযোগকারির। তিনি আরো বলেন, টেন্ডারের ক্ষেত্রে যে বায়না টাকা (আরনেস্ট মানি) জমা করা হয়েছে, সমস্ত দরপত্র জমাকারীদের সেই টাকা একই ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আরো অভিযোগ, পিসিসি ঢালাই রাস্তার কাজ হয়নি, অথচ তার বিল পেমেন্ট করা হয়ে গিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে পঞ্চায়েতে। শুভাশিস বাবু বলেন, কলাবনী পঞ্চায়েতে “কাটমানি” ছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোন কাজই হয়না। সম্প্রতি পিসিসি ঢালাই রাস্তার একটি কাজ তিনি পান। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার নিতে গেলে তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা “কাটমানি” চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওয়ার্ক অর্ডার আটকে দেওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষকে চিঠি করলে নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু লোক পাঠিয়ে ১৩ দিনের মাথায় তাঁর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাঁকে বেআইনী ভাবে শোকজ চিঠি ধরানো হয় বলে অভিযোগ শুভাশিস দাসের। এবিষয়ে জানতে এদিন কলাবনী পঞ্চায়েতের প্রধান সুচেতা টুডুকে ফোন করা হলে তাঁর স্বামী হাকিম চন্দ্র টুডু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওই ঠিকাদার নিজেই গ্রামের মানুষের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ায় গ্রামের লোকই ওনার কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে পঞ্চায়েতই উদ্যোগ নিয়ে সমস্যা মিটিয়ে ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ শুরু করতে বললেও তিনি এখনো কাজ শুরু করেননি।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page