নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, শুক্রবার, ৫ আগষ্ট ২০২২ঃ
পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজেদের দু-মাসের শিশু সন্তানকে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। টামনা থানার অন্তর্গত ডুঁড়কু গ্রামের এই ঘটনায় এদিন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে টামনা থানার পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু বছর আগে ডুঁড়কু গ্রামের সাগর রুহিদাসের সঙ্গে বলরামপুর থানার অন্তর্গত ছোটগাদোর বাসিন্দা নিহারী রুহিদাসের বিয়ে হয়। দুমাস আগে তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও হয়। জানা গিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই নিহারী দেবীর উপর নিয়মিত নির্যাতন চালাতেন স্বামী সাগর রুহিদাস বলে অভিযোগ। তাই বৃহস্পতিবার বলরামপুরের ছোটগাদো থেকে নিহারী দেবীর মা এবং এক ভাই নিহারী দেবীকে বাপের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ডুঁড়কু গ্রামে পৌঁছন। স্ত্রীকে বাপের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান সাগর। এমনকি নিহারী দেবীর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর বচসাও শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। নিহারী রুহিদাসের অভিযোগ, বচসার মধ্যেই আচমকা তাঁর কোল থেকে তাঁদের দু মাসের পুত্র সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলেন স্বামী সাগর রুহিদাস। নিহারী দেবীর বক্তব্য, কেন বাচ্চাকে মেরে ফেলল তাঁর স্বামী সে বিষয়ে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। নিহারী দেবীর ভাই অশোক রুহিদাসের বক্তব্য, মা ও ভাই দিদিকে বাপের বাড়ি নিয়ে আসতে গিয়েছিলেন। তাতে আপত্তি করেন জামাইবাবু। আচমকাই ভাগ্নেকে দিদির কোল থেকে ছিনিয়ে মেঝেতে আছাড় মারেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূকে বাপের বাড়ি নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই বচসার জেরে সাগর রুহিদাস শিশু সন্তানকে মেঝেতে আছাড় দেয়। ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুকে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। শুক্রবার বিকেলে মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যদের তরফে তার বাবার বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
শেয়ার করুন