নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, বুধবার, ৩১ আগষ্ট ২০২২ঃ

টোল গেটে ম্যানেজারের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। তবে লাগবে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। চাকরির আবেদন পত্র জমা দেওয়ার সময় অগ্রীম এক লক্ষ টাকা দিতে হবে। চাকরি হয়ে গেলে দিয়ে দিতে হবে অবশিষ্ট টাকা। এই শর্তে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে এক লক্ষ টাকা খোয়ালেন পুরুলিয়া মফস্বল থানার রাঘবপুরের বাসিন্দা যুবক মিঠুন রাজোয়াড়। গতকাল, মঙ্গলবার তিনি মফস্বল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা গিয়েছে, নিজের এক ঘনিষ্ঠের মাধ্যমে কিছু আগে পিন্টু পাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন মিঠুন রাজোয়াড়। যিনি নিজেকে বাঁকুড়া থানার জুনবেদিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি মিঠুন বাবুকে টোল গেটের ম্যানেজারের চাকরি পাইয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। মিঠুন বাবুর দাবি, এন এইচ-৩২ এর যে সম্প্রসারণের কাজ চলছে তাতে দুটি টোল গেট করা হবে এবং দুটি গেটে দুজন ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে বলে তাঁকে বলেন পিন্টু পাল। এরপর একটি গেটে মিঠুন রাজোয়াড়কে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পিন্টু পাল নাকি বলেন, ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লাগবে। যার মধ্যে এক লক্ষ টাকা চাকরিতে আবেদন করার সময় অগ্রীম দিতে হবে এবং অবশিষ্ট টাকা দিতে হবে চাকরিতে কোয়ালিফাই হলে। মিঠুন বাবু প্রস্তাবে রাজি হওয়ায় তাঁকে একটি ফর্ম দেন পিন্টু পাল। যা পূরণ করে মিঠুন বাবু একটি নির্দিষ্ট ইমেইল-এ পাঠান এবং ফর্মের হার্ড কপি পিন্টু পালের হাতে তুলে দেন। ফর্মের সঙ্গেই নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং দুটি ফোন-পে নম্বরে যথাক্রমে ৬০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা দেন মিঠুন রাজোয়াড়। এরপর দীর্ঘদিন চাকরি বিষয়ে পিন্টু বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না বলে দাবি মিঠুন বাবুর। তখন এন এইচ-৩২ অফিসে যোগাযোগ করে মিঠুন বাবু জানতে পারেন ওই নামের কেউ এই অফিসে কাজই করেন না। এরপরই গতকাল, মঙ্গলবার পুরুলিয়া মফঃস্বল থানার দ্বারস্থ হয়ে পিন্টু পালের বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকা প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিঠুন রাজোয়াড়। মিঠুন বাবুর দাবি, তিনি অত্যন্ত গরীব। দোকানে কাজ করেন। চাকরির প্রতিশ্রুতিতে এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তর দ্বারা প্রতারিত হয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মিঠুন রাজোয়াড়।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page