নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ২৪ নভেম্বর ২০২১ঃ

অবিলম্বে জেলার ৮৯ টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয় বা স্পেশাল ট্রেনিং সেন্টার (এস. টি. সি) খোলার দাবি জানিয়ে জেলা শাসককে দাবি সনদ পেশ করল সি আই টি ইউ অনুমোদিত পুরুলিয়া জেলা মানব সম্পদ উন্নয়ন সহায়ক কর্মী ইউনিয়ন। সংগঠনের জেলার সম্পাদক পরিমল ব্যানার্জি বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বন্ধ রয়েছে জেলার ৮৯ টি স্পেশাল ট্রেনিং সেন্টার। বন্ধ রয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশোর অধিক কর্মীর বেতন এবং প্রায় চারশোর মত শিশু শ্রমিক পড়ুয়াদের মিড-ডে-মিল ও স্টাইপেনও। অথচ প্রশাসন ও সরকার নির্বিকার। পরিমল ব্যানার্জি বলেন, এর আগে আমরা বহুবার সরকারি দপ্তরে বিগত প্রায় দুটি বছর ধরে এ বিষয়ে বারবার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। এদিন জেলার বিভিন্ন এস. টি. সি-র শিক্ষা কর্মী তথা সংগঠনের সদস্যরা জেলা শাসকের কাছে অবিলম্বে সেন্টারগুলি খোলার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিন হুড়ার তিলাবনী সেন্টারের শিক্ষা কর্মী বিনোদ কর্মকার, নিতুড়িয়া ব্লকের নামো দীঘা সেন্টারের শিক্ষা কর্মী মীরা মাঝিরা বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার প্রোজেক্ট-এর অন্তর্গত জেলায় ৯০ টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয় বা স্পেশাল ট্রেনিং সেন্টার চালু হয়। প্রতিটি সেন্টারে একজন করে টি আই সি, একজন করে সহ শিক্ষক, একজন করে ভোকেশনাল ট্রেনার, একজন করে ক্লার্ক ও একজন করে পিওন নিয়োগ করা হয়। মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী গড়ে জেলার প্রতি সেন্টারে ৫০ জন শিশু শ্রমিক বিদ্যার্থীও ছিল বলে দাবি বিনোদ কর্মকার ও মীরা মাঝির। বিনোদ বাবুর বক্তব্য, প্রথমে জেলাতে ৯০ টি সেন্টার চালু হলেও ২০১০ সালে একটি সেন্টার, হুড়ার দলদলি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। হুড়ার টাঙি নোয়াদা সেন্টারের শিক্ষা কর্মী দিপালী নন্দী, পুরুলিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিক্ষা কর্মী বেলা সরকাররা বলেন, এন সি এল পি-র নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসন একটি সার্ভে রিপোর্ট জমা দিলে পরবর্তী তিন বছরের জন্য এই সেন্টারগুলি চালু রাখার অনুমোদন পাওয়া যেত। কিন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেন্টারগুলি চালু থাকার পর ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে অনুমোদন না পাওয়ায় সেন্টারগুলি বন্ধ রয়েছে। যদিও ২০২০-র মার্চ মাসে সার্ভে রিপোর্ট জমা পড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিনোদ কর্মকার, মীরা মাঝি, বেলা সরকাররা। বিনোদ বাবু বলেন, বিগত দু বছর ধরে কর্মীদের বেতন যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনি বন্ধ রয়েছে জেলার এতগুলি সেন্টারের শিশু শ্রমিক বিদ্যার্থীদের মিড-ডে-মিল এবং স্টাইপেনও। জেলাতে প্রকল্পের ডাইরেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার এবং পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান জেলাশাসক, জানান সংগঠনের সম্পাদক পরিমল ব্যানার্জি। এদিন জুবিলি ময়দান থেকে মিছিল করে অবিলম্বে জেলার সেন্টারগুলি চালু করার তাঁদের দাবি সনদ জেলাশাসককে পেশ করেন সংগঠনের সদস্যরা।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page