নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ঃ “করম পরবে” পূর্ণাঙ্গ ছুটি’র দাবিতে শনিবার জেলা জুড়ে ‘ডহর ছেঁকা’ কর্মসূচি পালন করল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। একাধিক জাতীয় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ব্লকেরই একগুচ্ছ মূল স্থান ও সড়ক এদিন অবরোধ করেন কুড়মি সমাজের সদস্যরা। সেই সঙ্গে রাস্তাতেই ঢোল ধামসা ও গানের তালে মেতে ওঠেন তাঁরা। অবরোধের জেরে শনিবার গোটা জেলা কার্যত অবরূদ্ধ হয়ে পড়েন। জরুরী পরিষেবাতে ছাড় দেওয়া হলেও জেলাজুড়ে প্রায় সব রুটেই যান চলাচল স্তদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিরও শিকার হন বহু মানুষ।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজ্য সরকার করম পরবে ‘সেকশেনাল’ ছুটি ঘোষনা করে। যদিও তাতে সন্তুষ্ট নন পুরুলিয়া তথা জঙ্গলমহলের কুড়মি সমাজ। গত বছরেও জঙ্গল মহলের একাধিক এমপি এবং এমএলএও করম পরবের দিন পূর্ণাঙ্গ ছুটির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছিলেন। শনিবার পূর্ব ঘোষনা মত সকাল থেকেই পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন রুটে রাস্তা অবরোধ শুরু করে আদিবাসী কুড়মি সমাজ সহ একাধিক কুড়মি সংগঠন। এদিন ৩২ নম্বর জাতীয় সড়কে টামনা থানা এলাকায় কাঁসাই নদীর ব্রীজের দুদিকেই বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এবিষয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাত বলেন, এদিন আদিবাসী কুড়মি সমাজ জঙ্গলমহলে অর্থাৎ পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে করম পরবে সেকশেনাল ছুটির প্রতিবাদে এবং পূর্ণাঙ্গ ছুটির দাবিতেই এই আন্দোলন করে। অত্যাবশকীয় পরিষেবা ছাড়া কোনও কিছু ছাড়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘোষনার পরও কেন করম পরবে পূর্ণাঙ্গ ছুটি হয়নি তা জানিনা। এদিন জেলার প্রায় সব ব্লকেই এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত সুরেশ চন্দ্র মাহাত বলেন, কলকাতা কেন্দ্রিক রাজ্য সরকার পুরুলিয়া তথা জঙ্গলমহলের সংস্কৃতি জানে না। চারটি জেলাতে প্রায় ৪০ টি জায়গাতে এই অবরোধ কর্মসূচি এদিন পালন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ঢোল ধামসা আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনের অঙ্গ। তাই ধামসা মাদল নিয়েই এসেছি। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ৩২ নম্বর জাতীয় সড়কে সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত অবরোধ চলে। জেলার অন্যান্য প্রান্তেও দুপুরের পর অবরোধ উঠতে শুরু করে। কোথাও কোথাও আবার এদিন বিকেল পর্যন্ত অবরোধ চলে বলে জানা গিয়েছে।


অন্যদিকে এদিন আদিবাসী কুড়মি সমাজের অবরোধের জেরে গোটা জেলা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। স্কুল কলেজে যাওয়া ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও যান চলাচল না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হন।
শেয়ার করুন