নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ঃ

জলমগ্ন পুরুলিয়া শহর। বুধবার সমস্ত রাত বৃষ্টি হওয়ার পর বৃহস্পতিবারও একটানা বৃষ্টিতে পুরুলিয়া শহরের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে, বিশেষত বস্তি এলাকায় চূড়ান্ত দুর্ভোগ বাসিন্দাদের। এদিকে পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি সহ প্রশাসক মন্ডলীর সদস্যরা পৌরসভার ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের নিয়ে গতকাল রাত থেকেই শহর জুড়ে জমে থাকা জল নিকাশির ব্যবস্থা করে চলেছেন বলে পুরুলিয়া পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শান্তময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে তেঁতুলতলা বাখলিয়া বস্তি সম্পূর্ণ রূপে জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কেতকা এলাকার দুলমির বাঁধ জলে ভরে ওভার ফ্লো করায় সংলগ্ন বস্তি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রবল বর্ষণে এই বস্তি এলাকার গোটা পাঁচটি মাটির ঘরের চালা ভেঙে গিয়েছে বলেও জানা যায়। অন্যদিকে দুদিনের একটানা বর্ষণে ভাটবাঁধ পাড়ায় তামলি বাঁধ ভরে গিয়ে জল ওভার ফ্লো করায় পাশের বস্তিবাসীদের ঘরে ঘরে জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা সব কাজ ছেড়ে রান্নার বাসনপত্র ভরে ভরে বাড়ির ভেতরের জল বাইরে ফেলছেন সকাল থেকেই। প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য রবিশঙ্কর দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, আমরা নিজেরা ওই এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছি। দুলমি বাঁধ সংলগ্ন বস্তিতে যাঁদের চালা ভেঙে পড়েছে, এরকম ১২ টি পরিবারকে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে পুরুলিয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে। রবি শঙ্কর দাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্লাস্টিক বা থার্মাকলের কারনে শহরের বহু এলাকায় জল নিকাশির ব্যবস্থা বেহাল হয়ে ছিল। যে কারনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জল জমে গিয়েছে। পৌরসভার ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট কর্মীরা নিকাশি ব্যবস্থা আটকে রাখা প্লাস্টিক বা থার্মাকল সরিয়ে ইতিমধ্যেই বহু স্থানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এনেছেন বলেও জানিয়েছেন রবিশঙ্কর দাস।

অন্যদিকে, গতকাল রাত ১২ টা পৌরসভার হেল্পলাইন নম্বরে খবর আসে শহরের রাজস্থান বিদ্যাপীঠের পাশের রাস্তা এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত সারদা কমপ্লেক্স সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। খবর পেয়েই ছুচে যান পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি, রবিশঙ্কর দাস সহ পুরুলিয়া পৌরসভার ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট কর্মীরা। জানা গিয়েছে আপাতকালীন সমাধানের জন্য রাজস্থান স্কুলের দেওয়ালের কিছু অংশ ভেঙে এলাকায় জমে থাকা জল নিকাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুদিনের একটানা প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন শহর জলমগ্ন হওয়ায় চূড়ান্ত সমস্যায় পুরুলিয়াবাসী, অন্যদিকে তেমনি পুরুলিয়া পৌরসভার ব্ষাপক তৎপরতায় সাধুবাদ দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সারদা কমপ্লেক্সের বাসিন্দা বাবলু দত্ত কিংবা রাজস্থান স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় জানান, পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি সহ এরকম সহানুভূতিশীল পুরুলিয়া পৌর প্রশাসন পেয়ে আমরা সত্যিই উপকৃত হয়েছি।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page