সংগঠকদের মধ্যেই কো-অর্ডিনেশন নিয়ে প্রশ্ন দলেই
নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
৮ সেপ্টেম্বর , ২০২০
জেলার কুড়িটি ব্লকের নতুন সভাপতিদের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে কুড়িজনকে সভাপতি নির্বাচন করে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় দু সপ্তাহ হতে চলল। অথচ তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও নাম ঘোষণা করতে পারেননি। এদিকে ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য সভাপতিদের নাম ঘিরে বেশ কয়েকটি ব্লকের দলীয় নেতা-নেত্রী-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে বিকল্প পথের হুমকি দেন। এই ঘটনায় দলেরই একাংশের মধ্যে থেকে বর্তমানে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধীকারীদের ভেতর কো-অর্ডিনেশনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও সে অভিযোগ মানতে চাননি দলের জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু।
দলের অন্দরের খবর, তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সঙ্গে জেলার কুড়িটি ব্লকের সভাপতিদের নাম চূড়ান্ত করার বৈঠক হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে নিজ নিজ ব্লকে সম্ভাব্য সভাপতিদের নাম অনুমান সাপেক্ষে জেলার প্রায় ছটি ব্লকে দলের অন্দরেই গোষ্ঠী সংঘাত শুরু হয়েছে। জেলা নেতৃত্বকে দল ছাড়ার বা বিকল্প পথ অবলম্বনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে কোন কোন ব্লক থেকে। এ নিয়ে দলের একাংশ, যাঁরা জেলাতে দলের সাংগঠনিক শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে জমি পুনরুদ্ধারের বিষয়টিতে সহমত ছিলেন, তাঁরাও এবার প্রশ্ন তুললেন, “ঘোষণার আগেই কি করে নাম ফাঁস হল? তাহলে বর্তমান পদাধীকারীদের মধ্যেই কি কো-অর্ডিনেশনের অভাব রয়ে গিয়েছে?” তাঁদের আরো দাবি, “সেরকম হলে তো ভবিষ্যতেও দল আবার জটিলতায় পড়তে পারে।” যদিও গুরুপদ টুডু এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছেন, “নামের যে তালিকা প্রস্তুত হয়েছে তা এলাকা থেকেই উঠে এসেছে। তাই ওই সব নাম নিয়ে তো সংশ্লিষ্ট এলাকায় চর্চা থাকবেই”।
সংগঠনকে হাতের তালুতে চেনা জেলা তৃণমূলের কয়েকজন প্রবীণ ও বর্ষীয়ানরা আরো একধাপ এগিয়ে বলছেন, “দলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে যদি শুদ্ধিকরণের দিকে যেতেই হয়, তাহলে এজেলাতে ব্লক স্তরে সেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। তা না হলে কেবলমাত্র একা শান্তিরাম মাহাতকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে কি লাভ হলো”?
তাঁদের আরও দাবি, “সভাপতিদের নাম ঘোষণায় যত দেরি হবে, ব্লক স্তরে গোষ্ঠী সংঘাত তত বাড়বে। রাজ্য কমিটির সঙ্গে বৈঠকে সভাপতিদের নাম নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা জেলা নেতৃত্বের যদি হয়ে গিয়েই থাকে তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘোষণা করে দিতে পারলেই দলের সংগঠকরা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবেন”।
শেয়ার করুন