নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :
১৯ জানুয়ারী , ২০২১
কন্যাশ্রী থেকে রূপশ্রী, সবুজ সাথী থেকে স্বাস্থ্য সাথী, গতিধারা থেকে যুবশ্রীসমস্ত সরকারি জনমুখী প্রকল্পগুলি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী জেলা তৃণমূলের আহ্বানে হুটমুড়ার ফুটবল ময়দানে জনসভা করতে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিগত বেশ কয়েকদিন যাবৎ এভাবেই শহর থেকে গ্রাম, গঞ্জ থেকে বস্তি জেলার সর্বত্র চলছে মাইকে মাইকে অ্যানাউন্সমেন্ট। জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার পুরুলিয়ার হুটমুড়ার ফুটবল ময়দানে তৃণমূল সুপ্রিমাে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতে ২ লক্ষ মানুষের জমায়েত করার টার্গেট নিয়েছেন তারা।
জেলার প্রতিটি প্রান্ত থেকে কর্মী সমর্থকদের সভাস্থলে পৌছানাের জন্য প্রায় ১৩০০ বাস বুকিং করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে আরও প্রায় এক হাজারের বেশি অন্যান্য গাড়িও বুকিং করা হয়েছে বলে জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন পুরুলিয়া শহরের সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করার কথা, সেই সঙ্গে বুধবার পুরুলিয়া শহর থেকেই একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনেরও কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় একবছর পর পুরুলিয়া সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েকদিন ধরে সভাকে ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। ব্লক স্তরের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি জেলাজুড়ে মাইকিং, দেওয়াল লিখন, বাইক মিছিল ও পথসভাও করে তৃণমূল। সেই সঙ্গে চলে সােশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রচার। সােমবার পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় হুটমুড়ার সভাস্থল পরিদর্শনে যান। পরে দলের জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু, যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাত দফায় দফায় সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। সেই সঙ্গে জেলা অফিস থেকে বিভিন্ন ব্লক স্তরের নেতাদের সঙ্গে দিনভর যােগাযােগ করে চুড়ান্ত প্রস্তুতির খোঁজ নেন জেলা নেতারা এ বিষয়ে তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার কো-অর্ডিনেটর তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জনসভাতে দুলক্ষেরও বেশি মানুষ উপস্থিত থাকবেন। সভাতে আসার জন্য দলের পক্ষ থেকেই প্রায় ১২৮০ টি বাস বুকিং করা হয়েছে।
পুরুলিয়া ছাড়াও বাঁকুড়া এবং আসানসােল থেকেও বাস ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়াও ছােট গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি। তবে নেতা-কর্মীরা অনেকেই নিজেদের গাড়ি করেও সভাস্থলে আসবেন। সুজয়বাবু আরও বলেন, পুরুলিয়া শহর থেকে ৭০০ টোটো ভাড়া করা হয়েছে। এই টোটোগুলিতে শহরের কর্মী সমর্থকরা একসঙ্গেই সভাস্থলে আসার কথা রয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাইক মিছিল করেও আসবেন কর্মী সমর্থকরা। স্থানীয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, সােমবার সভাস্থলে গিয়ে সভাস্থলের একেবারে শেষের দিকে কিছু ব্যারিকেডের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুজয়বাবু। কর্মী সমর্থকরা যাতে তৃণমূল সুপ্রিমােকে ভালােভাবে দেখতে পান তার জন্য এই ব্যারিকেড খুলে দিতে বলেন সভাধিপতি।
সুজয়বাবু আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ কপ্টারে সভাস্থলে এসে পৌছাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সভাস্থালে দুটি মঞ্চ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর একটি মূল মঞ্চ ছাড়াও পাশেই একটি ছােট মঞ্চ করা হয়েছে। সভা শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়া সার্কিট হাউসে পৌছাবেন। সেখানেই রাত্রিযাপন করার কথা রয়েছে তাঁর। বুধবার সকালে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করার কন্যা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে সাজো সাজো রব পুরুলিয়া শহর সহ সভাস্থলের আশেপাশের এলাকাতে। জেলার বিভিন্ন রুট থেকেমুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের জায়গায় আসার পথে বড় এবং ছােট কাটআউট,বিশালাকার হােডিং এবং দলীয় পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গােটা এলাকা। সভাস্থলের বিভিন্ন দিকে বড়স্ক্রিনে সভা দেখার সুযােগ থাকবে। এছাড়াও সভাস্থলের আশেপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরাও ইতিমধ্যে লাগানাে হয়েছে। সােমবার মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সভাস্থলের বিভিন্ন দিকে নজরদারি চালায় পুলিসকর্মীরা। এদিন সভাস্থলের প্রস্তুতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে
একাধিকবার সভাস্থলে যান পুরুলিয়ার পুলিস সুপার সহ জেলা পুলিসের কর্তারা। সভাস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিস আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন পুলিসকর্তারা।
