নিজস্ব সংবাদদাতা, বলরামপুর: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও সরকারি লকডাউন বিধিবদ্ধতার কারণে মার্চ ২০২০ থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে একগুচ্ছ ট্রেন চালু করল দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে। শনিবার ও সোমবার
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের পক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয় যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং বারংবার মানুষের দাবির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারি করোনা বিধি মেনে এই ট্রেনগুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিনই একগুচ্ছ ট্রেনের সঙ্গেই চালু হল দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ঝাড়গ্রাম-ধানবাদ-ঝাড়গ্রাম মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিও। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এদিন এই ট্রেনকে ঘিরে পুরুলিয়ার বরাভূম স্টেশনে দেখা গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে যেমন ট্রেনটি চালু হওয়াতে বরাভূম স্টেশনে খুশির জোয়ার, অন্যদিকে তেমনই এই ট্রেন সহ আরো বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে স্পেশাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন ঘোষণা করে বর্ধিত ভাড়ায় চালানোর কারণে বলরামপুর জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভের আঙুল তুলছেন রেল কর্তৃপক্ষের দিকে।

মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম-ধানবাদ-ঝাড়গ্রাম মেমু ট্রেনটি বরাভূম স্টেশনে ঢুকতেই স্থানীয় যুবকরা ড্রাইভারকে ফুলের তোড়া, মিষ্টি ও পানীয় জলের বোতল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সম্বর্ধনা জানান। তাঁরা বলেন, ট্রেনটি পুনরায় চালু হওয়ায় বলরামপুর সহ আশপাশের বহু মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। আবার একই সঙ্গে ট্রেনটির ভাড়া বাড়ানোয় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। এদিন বরাভূম স্টেশনে স্থানীয় যুবক কীর্তন সেন ট্রেনটি পুনরায় চালু হওয়ায় খুশি বলে জানালেও তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, স্পেশাল প্যাসেঞ্জার হিসেবে বর্ধিত ভাড়ায় চালু হল কেন? যাতে স্থানীয়দের, বিশেষত এলাকার গরীব কৃষিজীবিদের অসুবিধেয় পড়তে হবে বলেও তাঁর মত। এদিনই বরাভূম স্টেশনে ট্রেনের ড্রাইভারকে শুভেচ্ছা জানাতে এসে একই সঙ্গে আনন্দ ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় রাঙাডির যুবক, পেশায় ছোট গাড়ির ড্রাইভার চন্দন শর্মা। তিনি বলেন, ট্রেন চালু হওয়ায় খুশি, কিন্ত কেন ভাড়া বাড়ানো হল? এদিকে এই ট্রেনটিই শুধু নয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে হাটিয়া-টাটা-হাটিয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকেও স্পেশাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন হিসেবে বর্ধিত ভাড়ায় চালানো হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে কীর্তন সেন ও চন্দন শর্মা একরাশ ক্ষোভ উগরে বলেন, এইভাবে প্রতিটি ট্রেনের ভাড়াই আচমকা এতটা বেড়ে গেলে আমাদের মত সাধারণ মানুষদের তো চরম বিপদ। তাঁদের দাবি, তাহলে অন্য কোন লোকাল আমাদের মত সাধারণ মানুষদের জন্য চালাক রেল কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page