নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১ সেপ্টেম্বর , ২০২০

আগেই জয়পুরে শক্তি-কীর্তন তরজা সামলাতে বারে বারে হিমশিম খেয়েছে তৃণমূলের জেলা থেকে রাজ্য কমিটি। তার ওপর আরো দুই একদা অহি-নকুল হেভিওয়েট তৃণমূলে এলেন। তাহলে জয়পুরে দলের ভাগ্য কি? তৃণমূলের অন্দরেই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। ৩০ বছর ধরে প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সহ রাজনীতির শীর্ষে থাকা শঙ্কর নারায়ণ সিং দেও আর দীর্ঘ দিন ধরে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের কংগ্রেসের দোর্দন্ডপ্রতাপ বিরোধী দলনেতা, অসাধারণ বাগ্মী, বাম সভাধিপতিকে টক্কর দেওয়া চঞ্চল মৈত্রর নিঃশব্দ দ্বন্দ্ব জয়পুরের রাজনৈতিক মহলে বহু চর্চিত বিষয়। যে চঞ্চল মৈত্র ২০০১-এ শান্তিরাম মাহাতকে দোষারোপ করে, বিবৃতি দিয়ে কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, সেই চঞ্চলবাবু রবিবার তাঁর হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা তুলে নিয়েছেন। ২০০১-এ চঞ্চল মৈত্রর কংগ্রেস ছাড়ার পর কংগ্রেস ব্লকের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল শঙ্কর নারায়ণ সিং দেও-র কাঁধে। সেই থেকেই রাজনৈতিক ময়দানে শঙ্কর-চঞ্চল দ্বৈরথের আলোচনা শুরু হয়।

২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে শঙ্কর নারায়ণের নেতৃত্বে জয়পুরে বোর্ড দখল করে কংগ্রেস। বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চেও দেখা গেছিল চঞ্চল মৈত্রকে। কংগ্রেসের অন্দরেই প্রবল প্রস্তাব ওঠে শক্তি পদ মাহাতকে সভাপতি করার। জয়পুরের তৎকালীন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাব উঠলেও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন শঙ্কর নারায়ণ সিং দেও। সেই তখন থেকেই জযপুরের আঙিনায় শক্তি-শঙ্কর মনমালিন্যের কথাও বিশেষ প্রচলিত। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হলে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব থেকে শঙ্কর নারায়ণকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০০৮ থেকে ২০১৩,পাঁচ বছর রাজনৈতিকভাবে স্বনির্বাসনে যাওয়া চঞ্চল মৈত্রকে। ব্লকের একাংশ রাজনৈতিক অভিজ্ঞদের বক্তব্য, ঘটনাক্রমই প্রমান করে শঙ্কর-চঞ্চল অহি-নকুল সম্পর্কের।

২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে খোদ জযপুর পঞ্চায়েত বিজেপির দখল করার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন শঙ্কর নারায়ণ সিং দেও। বলছেন বিজেপিরই কেউ কেউ। তবে ইদানিং নাকি বিজেপিতে তাঁকে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছিলো। আর তাই রাজনৈতিক ময়দানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী চঞ্চলের সঙ্গেই পাড়ি দিলেন তৃণমূলে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা বলছেন, “রাজনীতিতে কেউ কারো চির শত্রু নয়, আবার চির মিত্রও নয়”। গুরুপদ টুডু বলছেন, “আমরা সক্কলে একটাই দল করি, সেটা তৃণমূল কংগ্রেস”।

তবে যে যাই বলুন, জয়পুরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটকে বাজিমাত করেছে কংগ্রেস। চঞ্চল মৈত্রর দলত্যাগের বিষয়টি অগ্রিম অনুমান করে শুক্রবারই ব্লকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে চিঠি দিয়েছেন জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব, বলছেন জেলা কংগ্রেসের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র। তাই রবিবার তৃণমূলে যোগদান পর্বে বাধ্য হয়েই চঞ্চল বাবুকে নিজেকেই স্বীকার করতে হয়েছে “প্রাক্তন ব্লক সভাপতি” বলে, বলতে পারেননি “দল ছেড়ে এলাম”, দাবি কংগ্রেসীদের।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page