নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :
১৭ নভেম্বর, ২০২০

পুরুলিয়া পৌরসভার নতুন প্রশাসক নির্বাচন কি পুরুলিয়া বিধানসভা আসনে প্রার্থী নির্বাচনের আরেক পদ্ধতি ? এটাই এখন জেলার রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক, সব মহলেই লাখ টাকার প্রশ্ন। খােদ জেলা তৃণমূলের অন্দরেও চলছে জোর জল্পনা।

গত সপ্তাহেই পুরুলিয়া পৌরসভার প্রশাসক পদে বসানাের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুরুলিয়ার প্রাক্তন সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতকে। বুধবার, ১৮ নভেম্বর, নব নির্বাচিত প্রশাসক মৃগাঙ্ক মাহাত সহ পৌর কমিটির নতুন পাঁচজন সদস্য পৌরসভার চার্জ বুঝে নেবেন। সােমবার ফোনে মৃগাঙ্ক মাহাতর সঙ্গেযােগাযােগ করা হলে তিনি জানান, বিদায়ী প্রশাসক তথা কমিটির কাছ থেকে চার্জ বুনে নেওয়ার দিন ধার্য হয়েছে। কিন্তু আচমকা প্রাক্তন সাংসদকে কেন পৌর প্রশাসকে দায়িত্বভার অর্পণ, সেই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

প্রসঙ্গত মাস দেড়েক আগে হুটমুড়া তৃণমূলের কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন দলে কোর কমিটির সদস্য তথা পুরুলিয়া জেল পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেও-র উদ্দেশ্যে তাঁ বক্তব্যে তিনি বলেন, ভােটে জিততে হলে পুরুলিয়া বিধানসভা এলাকার সমস্ত স্তরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে উন্নত জনসংযােগ গনে তুলতে হবে দিব্যজ্যোতিকে। আর তারপরে শুরু হয় জল্পনা। তাহলে দিব্যজ্যোতিই কি বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী?

অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরে এবং অরাজনৈতিক ক্ষেত্রেও, একটা অংশ আবার সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুরুলিয়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। কিন্তু গতসপ্তাহে পুরুলিয়া পৌরসভার নতুন প্রশাসক হিসেবে প্রাক্তন সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতর নাম ঘােষণা হওয়ায় সেই জল্পনায় নতুন পালক জুড়েছে। দলের একাংশের মত পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে দল প্রয়ােজনে মৃগাঙ্ক মাহাতকেও প্রার্থী করতে পারে। তাই পৌর প্রশাসকের দায়িত্বভার দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একবার পরখ করে নেওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে বেশ কয়েকটি লবির সৃষ্টি হয়েছে, তা মানছেন তৃণমূলের কেউ কেউ।

অপরদিকে গােটা বিষয়টি নিয়ে রীতিমতাে তালি বাজাচ্ছে বিজেপি। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা সরাসরি বলেন, “আমরা তাে প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম চরম অপদার্থ পুরুলিয়া পৌর প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত আমাদের কথাতেই সিলমােহর দিতে হল তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বকেও”। তবে বিবেকবাবুর কথায়, বর্তমানে তৃণমূলের যেহেতু কোন সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র নেই, তাই নতুন পৌর প্রশাসনও একই রকম অপদার্থই হবে। যদিও প্রার্থীর বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ জেলা তৃণমুল নেতাদের কেউ।


শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page